প্রত্যাবর্তনে এমন মধুর ছবির কল্পনা হয়তো অনেকেই করেননি। করোনার ছোবলে প্রায় ১০ মাসের বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই মিলেছে জয়ের স্বস্তি। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বাংলাদেশের ‘পোস্টার বয়’ সাকিব আল হাসানও ২২ গজে ফিরলেন বিপুল বিক্রমে। বল হাতে অমিত সম্ভাবনার জয়গান শুনিয়েছেন অভিষিক্ত তরুণ ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদও। ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বের শুরু, আইসিসি ওডিআই সুপার লিগে বাংলাদেশের নাম লেখানো—গতকাল সবই জয়ের আবিরে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ দল।
অনেক প্রাপ্তির ম্যাচে অনুমিতভাবেই খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাত্তা পায়নি বাংলাদেশের কাছে। শীর্ষ ১২ ক্রিকেটার ছাড়াই সফরে আসা উইন্ডিজদের সঙ্গে নিজেদের শক্তিমত্তার যোজন-যোজন ব্যবধানটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে তামিম বাহিনী। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আয়েশি জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। আগামীকাল দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের মিশনে নামবে বাংলাদেশ।
এই জয়ে ওডিআই সুপার লিগে ১০ পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে সুপার লিগ শেষে থাকতে হবে শীর্ষ আটে। সেদিক থেকে শুরুটা ভালোই হয়েছে তামিমদের।
মাঠের লড়াইয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের নাকাল করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে সাকিবের বাঁহাতি স্পিন পড়তেই পারেননি জেসন মোহাম্মেদরা। প্রত্যার্বতনে ৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সঙ্গে অভিষিক্ত হাসান মাহমুদ ২৮ রানে তিনটি, মুস্তাফিজ দুটি উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন উইন্ডিজদের ব্যাটিং লাইন। বৃষ্টিতে ১ ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পরও ৩২.২ ওভারে ১২২ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। কাইল মায়ার্স সর্বোচ্চ ৪০, রোভম্যান পাওয়েল ২৮, জেসন মোহাম্মেদ ১৭, ম্যাককার্থি ১২ রান করেন।
তামিমদের সতর্ক ব্যাটিংয়ে ৩৩.৫ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। অধিনায়ক তামিম ৪৪, লিটন ১৪, সাকিব ১৯, মুশফিক অপরাজিত ১৯, মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৯ রান করেন। আকিল হোসে তিনটি উইকেট নেন।
অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সাকিব ম্যাচ সেরা হন। গতকালকের আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানদের বিরুদ্ধে খেলা নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার।
