পশ্চিমের জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশা ও শীত উপেক্ষা করে চাষিরা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরপর দুই বছর পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়ে চাষিরা এবার পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। তবে পেঁয়াজ ওঠার আগ মুহূর্তে দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ১ হাজার ৬৩৫ হেক্টর, ঝিনাইদহ জেলায় ১০ হাজার ১২২ হেক্টর, মাগুরা জেলায় ৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর, কুষ্টিয়া জেলায় ১১ হাজার ৪৬৯ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ হাজার ৫৫৭ হেক্টর ও মেহেরপুর জেলায় ৩ হাজার ৩২০ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। তবে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজের চাষ হয়। দেখা গেছে, এখনো চারা রোপণের কাজ চলছে। এতে চাষ আরো বাড়বে। তবে বীজের অস্বাভাবিক চড়া দাম ও চারা সংকটের জন্য অনেক চাষি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে পারেনি।
পাইকপাড়া গ্রামের চাষি কবির উদ্দিন ও সুমন হোসেন জানান, এবার পেঁয়াজ চাষে খরচ বেড়েছে। বিঘাতে ৪০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হবে। ১০ হাজার টাকা কেজি দরে বীজ কিনে চাষ করতে হয়েছে। আবার অনেক চাষি বীজে মার খেয়েছে। চারা গজায়নি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেশি জমিতে চাষ করতে পারেনি। তারা জানান, মাসখানেকের মধ্যে আগাম চাষ করা হালি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। পেঁয়াজ ওঠার সময় আমদানি বন্ধ রাখার আর্জি জানান তারা। একই গ্রামের চাষি আকামত বিশ্বাস ও সাইফুল মণ্ডল বলেন, তাদের জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। কি কারণে নষ্ট হয়েছে তারা জানেন না। পাঁচ-ছয় জন চাষির খেত নষ্ট হয়েছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকায় এবার পেঁয়াজের অবস্থা ভালো। মাসখানেকের মধ্যে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। আগাম চাষ করা মুড়িকাটি পেঁয়াজ উঠেছে। পাইকারি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘গত দুই বছর পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়ায় চাষি এবার বেশি মাত্রায় পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছে। মাঠে মাঠে পেঁয়াজের অবস্থা ভালো। মাসখানেকের মধ্যে আগাম চাষ করা হালি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে।’
