স্বজনপোষণ বা ঘরানার বাইরে থেকেও...

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ২০:১৬

তারিফ সৈয়দ

 

চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থায় নিয়মিত ছবি সংখ্যা একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। এর ভেতরে যা দু-একটা অনিয়মিতভাবে ছবি রিলিজ হচ্ছে, সেখানে নিজেস্ব  ঘরানার নায়ক-নায়িকাদেরই কাস্ট করা হয়। এই ‘নিজেস্ব ঘরানা’ শব্দ দুটিও বড় রহস্যাবৃত!

তাই সেক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে যারা দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রাগল করছেন ভালো একটি ব্যানারে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের। কিন্তু ঐ ‘ব্যাটে-বলে’ মেলানোর গল্পেই যেন আটকে থাকে সবকিছু। তবু চলচ্চিত্রকে ভালোবেসেই কাজ করছেন নিয়মিত।

জয়া আহসান একটি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, ‘কলকাতায় যে চরিত্রের জন্য যাকে প্রয়োজন তাকেই খুঁজে বের করে কাস্ট করবেন। এখানে যা দেখাই যায় না!’

এই সমীকরণেই অনেকে নিজ যোগ্যতার পরিমাপে কাস্টিং পান না!

মেধা যোগ্যতার সঙ্গে ভালো গল্প ও নির্মাতা জুটির ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের এই সংকটকাল পার করা সম্ভব। এর ভেতরে চিত্রনায়িকা আইরিন, অধরা খান, বিপাশা কবীর নিজেদের একাধিক চলচ্চিত্রে প্রমাণ করেছেন। তবুও বড় বাজেটের ছবিতে নেই কেন তারা? কিংবা বর্তমান ছবি সংকটই কী কাল হয়ে দাঁড়ায় শুধু তাদের জন্য? এ সংখ্যা শুধু এই তিনজনেই নয়, কেউ কেউ এ ধরনের ফিল্ম পলিটিক্সে হেরে সিনেমা ছেড়ে দিয়েছেন! কেউ আবার ফিল্মকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে আঁকড়ে আছেন।

এর ভেতরে চিত্রনায়িকা আইরিন দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন এই ইন্ডাস্ট্রিতে। নতুন বছরের ব্যক্তিগত ইশতিহার নিয়ে বলেন, ‘একজন অভিনেত্রী হিসেবে তো ভালো কাজের জন্য মুখিয়ে থাকি। কিন্তু আমারও অনেক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ছবির মহরতের পর সেই ছবি আর আলোর মুখ দেখেনি। এসব ক্ষেত্রে তো দায়টা আমাদের নয়, ইন্ডাস্ট্রির কিছু প্রতারক দায়ী।’

উল্লেখ্য, সাইফ চন্দনের পরিচালনায় বেশকিছু ভালোমানের চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন আইরিন। এর বাইরে একাধিক নির্মাতার কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু বিশেষ ঘরানার নায়িকা নন বলে পেশাদার অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও বড় ব্যানার বা বিগ বাজেট বা শাকিব খানের বিপরীতে কোনো উত্সব সময়ে আড়ম্বর নিয়ে ছবি রিলিজে তেমন একটা দেখা যায়নি তাকে!

নিজের মেধা যোগ্যতায় কোনো গডফাদার বা সেই অর্থে ঘরানার বাইরে থেকেই কাজ করছেন অধরা খান। শাহীন সুমনের পরিচালনায় পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন। এরপরও নিজেকে প্রমাণের পথেই হাঁটছেন এই নায়িকা। সর্বশেষ অপূর্ব রানার ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে কাস্ট হয়েছেন। অধরা বলেন, ‘সংকট-সংগ্রামের পথ বেয়ে যে ক্যারিয়ার, সেই ক্যারিয়ারে হুট করে হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই। তাই নিজেকে এভাবেই প্রমাণ করতে চাই। তাই স্বজনপোষণ বা এসব নিয়ে বাড়তি আক্ষেপ করতে চাই না। যে ছবি আমার হয়নি তা হয়তো আমার কখনো ছিল না।’

অপরদিকে ৩শ’র অধিক ছবিতে আইটেম গার্ল হিসেবে কাজ করা অভিনেত্রী বিপাশা কবীর মূলত ছবির প্রধান নায়িকা হওয়ার স্বপ্নেই এসেছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে। কিন্তু শুরুতেই জাজ মাল্টিমিডিয়ার ধোঁকায় পড়েন। তবুও গুটিয়ে যাননি। বরং নতুনভাবেই ক্যারিয়ারের ইনিংস শুরু করেছেন। এই সংকটের ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে ছবি সংখ্যাই ভয়াবহ রকমের কম সেখানে নিজেদের প্রমাণের এই দৌড় ক্লান্ত করে কি-না এমন প্রশ্নে বিপাশা কবীর বলেন, ‘আমি শেষটা দেখতে চাই। নিজেকে এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনেক সময় দিয়েছি। বাকি আরো কিছুটা দিতে চাই। তবু শেষটা দেখতে চাই। ফিল্মকে ভালোবেসেই এতদূর এসেছি। আরো পথ হাঁটতে চাই। আমি মন-প্রাণে বিশ্বাস করি উড়ে এসে জুড়ে বসানোদের জন্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কখনোই ছিল না। পরিশ্রমের অবশ্যই একটা মূল্য রয়েছে।’ মূলত চলচ্চিত্রকে পাগলের মতো ভালোবেসেই এই তিন চিত্রনায়িকা কাজ করছেন দীর্ঘদিন। ফিল্ম পলিটিক্সের সকল ব্যাকরণই নিজেদের ক্যারিয়ারে দেখে ফেলেছেন। তাই নিজের মেধা যোগ্যতা আর পরিশ্রমেই জয় করতে চান বাকি পথ।