‘আমার বাড়ি আমার খামার’ বর্তমান সরকারের একটি জনপ্রিয় প্রকল্প। খামার শব্দের অর্থ পশুপালন বা ফসল ফলানোর জায়গা। ফসল ঝাড়াই-মাড়াই করার স্থান, শস্যাঙ্গন। খামারবাড়ি মানে শস্যাগার, গোলাবাড়ি।
বাবা বলতেন, ‘তিন টেক্কা হতে হবে’। এই তিন টেক্কা বলতে তিনি দক্ষ সমাজকর্মীকে বুঝিয়েছেন। বাবার কথা হলো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে তেভাগা পদ্ধতিতে। যে খামারে কাজ করবে সে পাবে লাভের এক ভাগ আর মালিক পাবে দুই ভাগ। মালিক খামারের জায়গা-জমি, অর্থ ও মালামাল সরবরাহ করবে। এই তিন টেক্কা কে হবে? বাবা আমাকে, আমার ছোট ভাই বাবু ও ফুফাতো ভাই নুর আলমকে তিন টেক্কা বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাবা আজ নেই। আমরা থাকলেও সংসার নিয়ে যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি।
১৯৯৯ সালে প্রত্যন্ত গ্রামে বাবা খামারবাড়ির সূচনা করেন। বাবার স্বপ্ন ছিল গ্রামের বাড়িটিকে খামারবাড়িতে রূপান্তর করা। বাবা সে লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছিলেন। বাবা বাড়ির চারপাশে হরেক রকমের ফুল, ফল, বাহারি ও ঔষধি লতাগুল্ম রোপণ করেন। পুকুরে মাছ চাষ ও মৌসুমি শাকসবজি আবাদ করতেন। বাগানে উত্পাদিত টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেয়ে আমরা তৃপ্ত হতাম। ২০০৬ সালে বাবার পরামর্শে আমরা যৌথ উদ্যোগে একটি ব্রয়লার মুরগির ফার্ম তৈরি করি। কিন্তু আমরা লাভবান হতে পারিনি। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে ২০১৯ সালের মধ্য-সেপ্টেম্বরে আমি দেশি মুরগির একটি খামার করার উদ্যোগ নিই। বাড়ির দক্ষিণ দিকে ৭৫ ফুট সীমানা প্রাচীরের মাঝখানে মুরগির শেড নির্বাচন করি। পরিত্যক্ত জায়গাটি পরিষ্কার করে ১৫–১৫=২২৫ বর্গফুট শেডের কাঠের ফ্রেম তৈরি করা হয়।
কৃষি উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ বলেন—১. নেহাত চাষাড়ে বুদ্ধিতে নয়, বুদ্ধিমানের বুদ্ধিতে করতে হবে। উত্পাদন ঠিক পরিমাণ হচ্ছে না। লেখাপড়া জানা লোক পল্লিগ্রামে বাস করলে আর চাষবাসটা বিজ্ঞানের সাহায্যে করলে উত্পাদন বেশি হয়, চাষাদের চোখ খুলে যায়। ২. পাশ্চাত্য বিজ্ঞান সহায়ে মাটি খুঁড়তে লেগে যা, অন্নের সংস্থান কর—চাকরি গুখুরি করে নয়, নিজের চেষ্টায় পাশ্চাত্য বিজ্ঞান সহায়ে নিত্য নতুন পন্থা আবিষ্কার করে।
গ্রাম হোক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। গ্রাম থেকে উন্নয়নের স্রোতধারা প্রবাহিত হবে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িকে একটি খামারে রূপান্তর করা সম্ভব হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এদেশের উর্বর মাটি, পানি, আলো, বায়ু ও বিশাল জনসম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। কৃষি উন্নয়নে চাই কৃষিঋণ। কৃষিঋণ দিয়ে কৃষিকর্মের উন্নতি বিধান করতে হবে। আমরা একটি খামারবাড়ির স্বপ্ন দেখি এবং কৃষিতে জীবনের রহস্য খুঁজে বেড়াই। স্বপ্নের খামারবাড়ি নির্মাণ করতে কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন। একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়তে সুদমুক্ত কৃষিঋণের জন্য বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
দিনাজপুর
