প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছেন। তার জন্য বিভক্ত আমেরিকায় ঐক্য ফিরিয়ে আনা যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও শৃঙ্খলার সঙ্গে করোনা মহামারি মোকাবিলাও বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও মহামারি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করেছেন তিনি মার্কিন অর্থনীতিকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে গেছেন। তার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্ব সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গত এক বছরে করোনা মহামারির কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে মার্কিন অর্থনীতি। বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ এখন বেকার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ সপ্তাহেই ৯ লাখ মার্কিনি নতুন করে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। কোটি কোটি মার্কিনির জন্য আর্থিক সহায়তা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারের রিলিফ প্যাকেজের পরিকল্পনা পেশ করেছেন বাইডেন। তার মতে, মানুষের দুঃখ-কষ্ট যে পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, তাতে নষ্ট করার মতো সময় হাতে নেই। এই প্যাকেজ কংগ্রেস অনুমোদন করলে তা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। গত ডিসেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস ৯০ হাজার কোটি ডলারের যে আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল এটা তার ওপর বাড়তি প্রণোদনা প্যাকেজ।
অর্থমন্ত্রী পদে বাইডেনের মনোনীত, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক চেয়ারম্যান জ্যানেট ইয়েলেন এই অর্থনৈতিক রিলিফ প্যাকেজ পাশ করার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এখনো অর্থমন্ত্রী পদে সিনেটের অনুমোদন পাননি ইয়েলেন। মঙ্গলবার সিনেটের ফাইন্যান্স কমিটির শুনানিতে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে আরো বেশি ব্যয় জরুরি। মার্কিনিদের হাতে অর্থ পৌঁছাতে হবে, একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে হবে। ৭৪ বছর বয়সি ইয়েলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজারসের প্রধান ছিলেন। তিনি ২০১৪-২০১৮ পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান ছিলেন। সর্বশেষ আর্থিক মন্দা থেকে মার্কিন অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বেকারত্ব কমানোর ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই করোনা মহামারিকে পাত্তা দেননি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিত্সক, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেননি। বরং অনেকক্ষেত্রে অবজ্ঞা করেছেন। এমনকি করোনার টিকা আসার পর তা প্রয়োগের পরিকল্পনায় হতাশাজনক বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করে গেছেন। যে কারণে এই মহামারি এবং দেশটিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব মোকাবিলা নতুন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের এক দিন পরই কোভিড মোকাবিলায় তার কৌশল ঘোষণা করেছেন। বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে টিকার সরবরাহ বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আগে বিদেশিদের করোনা নেগেটিভ সনদ দেখানো। তার ১৯৮ পৃষ্ঠার পরিকল্পনা হোয়াইট হাউজ ডট গভ-এ পোস্ট করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমাদের জাতীয় কর্মকৌশল বিস্তৃত। এটি রাজনীতি নয়, বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটি সত্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই ইস্যুতে নতুন প্রশাসনের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
