গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুই শিশুসহ তিন জন এবং বরগুনায় পাথরঘাটায় এক শ্রমিক নিহত ও আরো প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, মহেশখালীতে বেলুন ফোলানোয় ব্যবহূত গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী দুই শিশুসহ তিন জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয় আরো অন্তত ১৩ জন। আহতদের অধিকাংশই শিশু। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মাতারবাড়ীর দক্ষিণ মিয়াজির পাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আহমদ খান এহসান (১২), বলিরপাড়ার আজিজুল রহমানের ছেলে এরশাদুল রহমান (১০) ও বেলুনবিক্রেতা চকরিয়ার হারবাংয়ের জসিম উদ্দিন। আহত অনেক শিশুর পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মাতারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, মাতারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন আজিজিয়া মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী সভার প্রথম দিন ছিল শুক্রবার। মাহফিল উপলক্ষ্যে স্কুলের মাঠে মিনি মেলা বসে। বিদ্যালয়ের মাঠে শিশুসহ নানা শ্রেণির-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। সেখানে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বেলুন ফুলিয়ে শিশুদের কাছে বিক্রি করছিল এক বেলুন বিক্রেতা। হঠাত্ বিকট শব্দে ঐ গ্যাস সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এ বিস্ফোরণে ক্ষত-বিক্ষত দুই শিশুর ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়। দুই পা হারানো বেলুন বিক্রেতা হাসপাতালে মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা। চেয়ারম্যান আরো জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের নির্দেশে হতাহতের পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে দাফন ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি মাথা, দুটি পা ও একটি বিচ্ছিন্ন হাত পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হাই জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এরপরও বিস্ফোরণের কারণ বের করতে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি ও পাথরঘাটা সংবাদদাতা জানান, পাথরঘাটায় একটি বরফ ফ্যাক্টরিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শাহজাহান হোসেন সম্রাট (৫০) নামে এক শ্রমিক নিহত এবং আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মীসহ একাধিক ব্যক্তি। নিহত সম্রাট পিরোজপুর জেলার বাদুরা গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলম মোল্লা মালিকানাধীন মোল্লা আইস ফ্যাক্টরিতে বরফ তৈরির কাজ চলার সময় এই সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে স্প্লিন্টারের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মিলের ভেতরে থাকা বরফকল মিস্ত্রি মো. শাহজাহান ওরফে সম্রাট। আহত হন বেশ কয়েক জন। বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারণে আশপাশে থাকা শিশুসহ অসুস্থ হয়ে পড়ে শতাধিক ব্যক্তি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর কর্মীরা। আহতদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাদের জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মানুষ।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থাল পরিদর্শন করেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রিমন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবুল ফাতাহ বলেন, গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহতদের বরিশাল পাঠানো হয়েছে। অক্সিজেন সংকটের কারণে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
পাথরঘাটা ফায়ার সর্ভিসের ফায়ারম্যান মারুফুজ্জামান বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে দুইটি ইউনিট পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আমাদের দুই জন সহকর্মীও আহত হন।
