করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন কৌশলে জো বাইডেন

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৩৪

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ধীরগতির হলেও আগের তুলনায় বেশি। তাই করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন কৌশল নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, সামনে ভয়াবহ দিন আসছে। এদিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চান বাইডেন। খবর আলজাজিরা ও ডয়চেভেলের

করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি

জো বাইডেন মার্কিনিদের উদ্দেশে বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে ভয়াবহ আকার নিতে পারে করোনা ভাইরাস। আগামী মাসে ৫ লাখে পৌঁছাতে পারে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা। হোয়াইট হাউজে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, পরিস্থিতি ভালো হওয়ার আগে খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই আমাদের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। বাইডেন বলেন, গত বছর ফেডারেল সরকার জরুরি ভিত্তিতে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ৪ লাখ ৮ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে। ইতিমধ্যে করোনা মোকাবিলায় ১০টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন জো বাইডেন।

বাইডেন আরো বলেন, আমরা রাজনীতি নয়, বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করে সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছি। অস্বীকার নয়, সত্যের ওপর নির্ভর করে কাজ করছি। তিনি জানান, সরকার করোনা মোকাবিলায় চিকিত্সা সরঞ্জাম যেমন সুচ ও সিরিঞ্জ উত্পাদনের ওপরও জোর দিচ্ছে। বাইডেন বলেন, আমি যখন যুদ্ধকালীন সময়ের কথা বলবো, তখন মানুষও আমার দিকে সেভাবেই তাকাবে। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও আমেরিকায় বেশি মানুষ মারা গেছে করোনায়।  

পরমাণু চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার একটি পরমাণু চুক্তি আছে। স্টার্ট অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ ১ হাজার ৫৫০টির বেশি পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারে না। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বাইডেন প্রশাসন এখন এই চুক্তির মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বাড়াতে চায়। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এই কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, বাইডেন অনেক দিন ধরেই বলছেন, আমেরিকার স্বার্থেই নতুন স্টার্ট চুক্তি করা দরকার। এখন এই চুক্তি করাটা আরো বেশি দরকার। কারণ, রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক এখন খুব মধুর নয়।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, বাইডেন ইতিমধ্যেই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া প্রভাবিত করতে চেয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাছাড়া রাশিয়ায় পুতিনবিরোধী নেতা নাভালনিকে বিষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ে রাশিয়ার উদ্যোগ বাইডেন প্রশাসন খুব ভালোভাবে দেখছে না। রাশিয়া যেন এরকম বেপরোয়া ও আমেরিকাবিরোধী কাজ না করে।

রাশিয়া অবশ্য পরমাণু চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্প বারবার সেই অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছেন। শেষের দিকে অবশ্য ট্রাম্প চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাশিয়া তখন ট্রাম্পের শর্ত মানতে রাজি হয়নি। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ালে দুই দেশই উপকৃত হবে। তখন পরমাণু অস্ত্রের মজুত বাড়ানো হবে না। আমেরিকার ঝুঁকিও কমবে।