নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে জনজীবন। মাঘের শুরুতেই এমন আবহাওয়ার সঙ্গে অবশ্য সৈয়দপুরবাসীর প্রতি বছরেই পরিচয় ঘটে। তবে ঘন কুয়াশা আর শীতের প্রকোপ বাড়ায় সন্ধ্যা নামতেই শহর হয়ে পড়ে স্থবির। ঘরমুখী হয়ে পড়ে পথচারীরা। মাঝেমধ্যেই সারা দিনে মিলছে না সূর্যের দেখা। তখন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার যানবাহন। বিশেষ করে কুয়াশা ও তীব্র শীতে কষ্টে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ।
এদিকে, শীতের তীব্রতায় স্থানীয় হাসপাতালে নিউমোনিয়া, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে হাসপাতালে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও তাদের পর্যাপ্ত চিকিত্সার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশের কয়েকটি অঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকবে
নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবীর জানান, শিশু কিংবা বয়স্ক রোগীদের যে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে হবে। এই শীতে প্রতিকার হিসেবে তিনি সব মানুষকে সব সময় গরম পানি ও গরম পানীয় পান এবং গরম খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়াসহ নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেন। এছাড়াও ঠান্ডা যাতে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধুলাবালি মিশ্রিত আবহাওয়া এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। শীতের তীব্রতায় গরম কাপড়ের দোকানেও ভিড় বেড়েছে।
আরও পড়ুন: মরা নদীর বুকে ফের থইথই পানি
এদিকে বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, ঘন কুয়াশা আর শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি-জ্বরসহ বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। উপজেলা সদর ইউপির চাংলা গ্রামের আবুল কালাম ও ইদ্রিস বলেন, অনেক বেশি শীত ও কুয়াশা পড়েছে। আমরা গরিব মানুষেরা কষ্টের মধ্যে পড়েছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. কানিস ফারহানা বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে হাসপাতালে রোগী বেশি আসছে। বদলগাছী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক জানান, আগামী তিন দিন এ অবস্থা থাকবে এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমএএম
