সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনের শেষ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলে গেছেন যে চীনে উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে চীন। এটা মনে করার কারণ নেই যে পম্পেও-এর মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন।
২০১৪ সালে পম্পেও বলেছিলেন যে যারা মুসলিম ধর্মে গভীরভাবে বিশ্বাস করে তারাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শত্রু। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে ম্যারাথনে বোমা হামলার জন্য তিনি সকল জ্যেষ্ঠ মূসলিমদের দোষারোপ করেন। শুধু তাই না পম্পেও সৌদির স্বৈরাচার শাসকদের কাছে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন ইয়েমেনের মূসলিমদের হত্যা করার জন্য। এছাড়া ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পক্ষয়েও ছিলেন পম্পেও। বিশ্লেষকরা বলেছেন, পম্পেও হয়তো চীনের বিরুদ্ধে কথা বলছে কারণ খুব শিগগিরই বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকাকে টপকে যাচ্ছে চীন তাই তিনি এই অভিযোগ তুলেছেন।
তবে তিনি যে কারণেই বলুক না কেন উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন নিয়ে সন্দেহ করা উচিৎ হবে না। যদিও চীন বরাবরই উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের কথা অস্বীকার করছ তবে এই ঘটনাটি আসলেও সত্য। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে শত শত উইঘুর মুসলিমদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা বলেছেন যে চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমদের আটক করে রেখেছে চীন সরকার। তাদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দুর্বিষহ নির্যাতন চালাচ্ছে তারা। চীনের দাবি, উইঘুর মুসলিমরা যাতে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদে না জড়ায় এই জন্য তাদের 'রি-এডুকেশন ক্যাম্প তথা পুনঃশিক্ষা শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: উইঘুর মুসলিমদের দাস বানিয়েছে চীন!
মূলত উইঘুরদের সঙ্গে চীন ঐরকম আচরণ করছে যে পশ্চিমা দেশগুলো জঙ্গিদের সঙ্গে করে থাকে। মুসলিমদের সন্ত্রাস উল্লেখ করে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। সেই টনি ব্লেয়ার বলেছেন যে চীন ঐ সমস্যায় ভুগছে যে সমস্যায় আমরা ভুগেছি।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নাম করে ইরাকে হামলা চালানো হয়েছে , ইসরায়েলিরাও দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। তবে তারা কখনোই রাশিয়া অথবা চীনা দূতাবাসকে কিছুই বলেননি।
পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে আওয়াজ তুলেছে তবে উইঘুর নিয়ে তারা কিছুই বলে না । এই এদিক থেকে আমাদের সত্যিকারের সার্বজনীনবিদ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: 'উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর নির্যাতন চীনের '
ব্রিটিশ সরকার উইঘুরদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। আমরা এখনো জানিনা যে জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি কেমন। অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে যে চীনের উচিৎ মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে সাহায্য করা। জাগ্রত বিবেকেই হোক আর অবচেতন মনেই হোক সকলের উচিৎ শক্তিশালীর দেশ থাবা থেকে উইঘুরদের মুক্তির জন্য সকলেরই প্রতিবাদ জানানো উচিৎ।
ওয়েন জনস, কলামিস্ট
ইত্তেফাক/এআর
