অবাক পৃথিবী

কাক একটা পাখি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:১৭

 

এষা আর তিশা তর্কে মেতেছে। তর্কের বিষয় কাক। তিশার বক্তব্য—কাককে পাখি বলা যায় না। কারণ কাকের গলার স্বর খুব বাজে।

এষা বলল, কী বলিস তিশা? সব পাখির গলার স্বর মধুর হবে নাকি?

তিশার বক্তব্য হলো, পাখির কণ্ঠস্বর ভালো হতেই হবে। এষা যুক্তি দাঁড় করাল, বাবার কাছে শুনিসনি কাককে পক্ষীও বলা হয়। তিশা মানতে রাজি নয়। দুবোন বাবার কাছে গেল। বাবা হাসল ওদের কথা শুনে—তিশা, এষার কথাই ঠিক মা।

তার মানে কাক একটা পাখি?

অবশ্যই। বাবা যোগ করল, সবাই কি দেখতে সুন্দর হয়?

তিশার মন খারাপ হলো।

বাবা বলল, তোরা কি জানিস, কাক একটা উপকারী পাখি? কোকিল বাসা তৈরি করে না। কাকের বাসায় ডিম পাড়ে কোকিল। কাক বুঝতেই পারে না। যত্ন করে ডিম পাহারা দেয়। একসময় ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। তারপর বাচ্চা উড়েও যায় কাকের বাসা থেকে। তখন বুঝতে পারে কাক। কিন্তু কাক একটুও রাগ করে না। কাকদের মধ্যে খুব মিল দেখা যায়। একটা কাক বিপদে পড়লে পঞ্চাশটা কাক এসে জুটে যায় সাহায্য করার জন্যে। কাক অনেক নোংরা আবর্জনা খেয়েও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

এবার তিশা বলল, হ্যাঁ এটা ঠিক কথা। কাকের প্রশংসা করতে হচ্ছে। ঢাকায় সবচাইতে কাক বেশি। ঢাকাকে কাকের শহর বলা যায়।

এষা জিগেস করল, আচ্ছা বাবা কাক কি অলুক্ষণে পাখি?

না, না, মোটেও নয়। পাখি অবলা প্রাণী।

এষা হাসতে হাসতে বলল, জানিস তিশা আমাদের উঠানের মাঝখানের আমগাছে দুটো বাসা আছে কাকের।

তিশা বলল, জানি আপু।