করোনার আশীর্বাদ দেখছেন রকিবুল

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫২

স্পোর্টস রিপোর্টার

২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১; অকুতোভয় চিত্তে ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম) পাকিস্তান একাদশের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন ব্যাটে ‘জয় বাংলা’ স্টিকার লাগিয়ে। তাতেই বাংলাদেশের জন্মের আগেই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরঅমর হয়ে গেছে রকিবুল হাসানের নাম। ১৯৭৯ সালে আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৬৮ বছর বয়সি রকিবুল এখন বিসিবির চিফ ম্যাচ রেফারি।

সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানের আসনে দেখেছেন স্বদেশকে। ম্যাচ রেফারির ক্যারিয়ারেও অগ্রদূত হিসেবে এক পূর্ণতার স্বাদ পেলেন রকিবুল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ম্যাচ রেফারি হিসেবে অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার নেয়ামুর রশীদ রাহুলের। এই সিরিজে টেস্টে অনফিল্ড দায়িত্ব পালনের সুযোগও পাবেন বাংলাদেশের আম্পায়াররা। বাংলাদেশের ম্যাচ অফিশিয়ালদের এমন অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। করোনাকালে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বাগতিক অফিশিয়ালরা ম্যাচ পরিচালনা করছেন। রকিবুল হাসানের মতে, এটি করোনার আশীর্বাদ।  গতকাল একান্ত আলাপে সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমাদের ম্যাচ রেফারি সুযোগ পেল। টেস্টে প্রথম বার আম্পায়াররা অনফিল্ড দায়িত্ব পালন করবে। এটা আসলে কোভিডের পুরস্কার। কোভিড পৃথিবীতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, আবার ভালো দিকও কিছু এসেছে। আমি বলব, আমাদের ম্যাচ অফিশিয়ালরা এই সিরিজে যে সুযোগটা পেল তা কোভিডের আশীর্বাদ।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশি ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিয়মিত ম্যাচ পাওয়ার আরো সুযোগ দেখছেন রকিবুল। তিনি বলেছেন, ‘এখন এখানে চ্যালেঞ্জটা তাদের, যারা কাজ করছে। একটা প্ল্যাটফরম পেল ওরা। কোভিড সহজে যাবে না। হয়তো সহনীয় হবে। ভ্যাকসিন এসেছে। কিন্তু আমার মনে হয় আরো এক-দুই বছর হোম ম্যাচ অফিশিয়াল দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা হতে পারে। তাই যারা কাজ করছে তাদেরই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।’ তিন ম্যাচের সিরিজের ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকা নেয়ামুর রশীদ রাহুল ও দেশীয় আম্পায়ারদের পারফরম্যান্স ভালোই বলছেন রকিবুল। জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করে ব্যয়বহুল সিরিজ আয়োজন এবং দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ায় বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত হওয়ার জন্য ম্যাচ অফিশিয়ালদের ব্যক্তিগত উন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন রকিবুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা ভাষাগত, ইংলিশে আমরা দুর্বল, শুধু লিখলে হয় না, ম্যাচ অফিশিয়ালদের বলতে হয়, মাঠে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে হয়। প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে হয়। এটা ব্যক্তিগতভাবে উন্নতি করতে হবে, রপ্ত করতে হবে।’