কুন্দলের রঙধনু পার্কে শোভা পাচ্ছে বাবলুর পাখি ভাস্কর্য

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪২

একমাত্র মেয়ে প্রতিবন্ধী বলে মানুষের

ভাস্কর্য তৈরি করেন না তিনি

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

একমাত্র মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটে বাবলুর। তার মেয়েটা জন্ম হতে প্রতিবন্ধী। কিন্তু তাকে অদম্য বানাতে বদ্ধপরিকর তিনি। সৈয়দপুর শহরের একটি স্বনামধন্য এলাকা আদানী মোড় সবাই চিনে। প্রয়াত চারণ কবি আবুল হোসেন আদানীর নামে এলাকাটি বেশ পরিচিতি পেয়েছে।

আবুল হোসেন আদানীর মেজো সন্তান বাবলু। পুরোনাম মো. নূরল আলম। কেউ কেউ তাকে সাত রঙের মানুষ হিসেবে চিনে। শুধু যে রঙ তুলি হাতে নিয়ে লাল, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল ব্যবহার করেন এজন্য নয়। নাটক, গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস লেখা, অভিনয় ও ভাস্কর্য শিল্পী এজন্য। নীরব প্রচারে বিশ্বাসী বাবলু।

ফুটফুটে মেয়ে প্রতিবন্ধী বলে মানুষের কোনো ভাস্কর্য তৈরি কিংবা পোর্টেট করেন না। তবে পাখির প্রতি তার গভীর প্রেম। এদেশের নানা প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। শৈশবে স্মৃতিতে ধারণ করা এসব পাখির ছবি আঁকেন। একই সঙ্গে তৈরি করেন ভাস্কর্য। তার পাখির ভাস্কর্যগুলো কিনে নিয়েছে একটা পার্ক কর্তৃপক্ষ। সৈয়দপুর পৌর এলাকায় অবস্থিত ‘কুন্দলের রঙধনু পার্কে’ শোভা পাচ্ছে বাবলুর পাখি ভাস্কর্য।

বিলুপ্ত প্রায় পাখির প্রতিকৃতি তৈরি করে নিজে তৃপ্ত। তেমনি পাখি প্রেমিকদের কাছে বিস্ময় এখন বাবলু। বাবলুর আর্ট করা পাখিগুলো এদেশের সোনালি অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বপ্নের ভেলায় চড়ে রংতুলি হাতে নিয়ে, রাঙিয়ে তুলেছেন নানান রঙে। বাবলু জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করেন মঞ্চ নাটক লেখা, তিনি নাটক লিখেছেন ৬১টি।

তার রচিত মঞ্চায়িত জনপ্রিয় নাটকগুলো হলো—লাল সবুজের পাগল, কালো মেঘের ছায়া, যৌতুকের মেঘ, ইতির উপহার, অযত্নের ফুল। তিনি অভিনয় করেন প্রাণবন্ত। অভিনয়ের কারণে বিভিন্ন জায়গায় তাকে বিভিন্ন নামে ডাকে, কখনো টুপা, টুরু মুলি, কখনো সাই নায়ক ও রমজান মোল্লা। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি লিখেছেন অনেক কবিতা, কালো রাত, ইতি, ২৬ মার্চ, পতাকা স্বচেতন, আগমন, নেশা, আমার গ্রাম, সুখে থাকো, বাল্যসাথী, আশা, নিষ্ঠুর বন্ধু প্রভৃতি। তার মোট কবিতার সংখ্যা প্রায় ৮১টি।

সৈয়দপুর রংধনু পার্কে যিনি মানুষের বিনোদন জোগাচ্ছেন, তিনি এক জন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। বিদ্যুত্ নিয়ে যার ভাবনা-চিন্তা হওয়ার কথা তিনি এখন সাত রঙের মানুষ। তার জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। আছে শুধু সত্ কাজ করার বাসনা। এছাড়া সোফার কুশন, মশারি ও জামার ডিজাইন প্রভৃতি রংপুর-দিনাজপুর ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাবলু।