নেতাজির লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য ও অশিক্ষা দূরীকরণ। তার সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। ভারতের কৃষকদের আধুনিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দেশের এই সমৃদ্ধি দেখলে নেতাজি খুশি হতেন। ভারতে মহামারির ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশসহ অন্য দেশগুলোকেও তা দেওয়া হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সোনার বাংলারও (পশ্চিমবঙ্গ) প্রেরণা ছিলেন। আমাদের আত্মনির্ভর সোনার বাংলা গড়তে হবে।
গতকাল শনিবার কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর এই অনুষ্ঠানেই মমতা বক্তব্য শুরু করার আগে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তোলা হয়। নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষ্যে সরকারি অনুষ্ঠানে এরকম ঘটনায় মমতা ব্যানার্জি ক্ষুব্ধ হন। তিনি বক্তব্য পেশ করতে উঠেও ভাষণ দিলেন না। পোডিয়াম থেকে সরে যান। তবে আগাগোড়াই অনুষ্ঠানে ছিলেন।
মমতা বলেন, ‘এটা একটা সরকারি অনুষ্ঠান। কোনো দলের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। সরকারি অনুষ্ঠানে শালীনতা থাকা উচিত। কলকাতায় এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তথ্য সংস্কৃতিমন্ত্রী। কলকাতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে কাউকে আমন্ত্রণ করে ডেকে এনে অসম্মান করা উচিত নয়। এর প্রতিবাদে আমি এখানে কিছুই বলব না।’
ভারতের চার প্রান্তে চার
রাজধানী চাইলেন মমতা
ভারতের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব্ত এই চারটি প্রান্তে চারটি রাজধানী করার দাবি তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শনিবার সকালে কলকাতার রেড রোডে নেতাজির ১২৫তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কেন দিল্লি থেকেই সমস্ত কাজ হবে? তাঁর দাবি ভারতের কলকাতাুসহ চারটি রাজধানী হোক। সংসদের অধিবেশনও হোক ঘুরে ঘুরে।
উল্লেখযোগ্যভাবে মমতা পশ্চিম ভারতের নাম উল্লেখ করেন নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম ভারতের গুজরাট প্রদেশের লোক। তাই মমতা কৌশলে পশ্চিম ভারতের নাম করেন নি। উল্টে বিজেপির ওপর চাপ তৈরি করতে চেয়েছেন।
ব্রিটিশ ভারতে প্রায় দেড়শ বছর ভারতের রাজধানী ছিল কলকাতা। ১৯১১ সালে তা সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের একাধিক দেশে একাধিক রাজধানীর বিষয় রয়েছে।
