‘স্বামী-সন্তান নিয়ে কোনো সময় রাস্তায়, কোনো সময় পরের বাড়ির বারান্দায়। আবার কোনো সময় খোলা আকাশের নিচে। ভূমি ও ঘরহারা মানুষ হিসেবে আপনার দেওয়া ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘ জীবন দান করুন এ কামনা করি।’ ঘর পেয়ে আবেগ আপ্লুত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে এক সন্তানের মা রীনা পারভীন (৩০) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে এভাবেই তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা অশোক দাস (৬৬) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার যুদ্ধকালীন স্মৃতি এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এতদিন স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা না পেলেও এতদিন পর মাথা গোজার ঠাঁই পেয়ে ভীষণ খুশি বলে প্রধামন্ত্রীকে জানান। তাদের মতো জমি ও ঘর পেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর গ্রামের হালিম শেখ (৫৫) ও চাকুন্দিয়া গ্রামের সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ ইনসার আলী হাওলাদার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গতকাল শনিবার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঠালতলা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীনদের ঘর প্রদান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সারাদেশে ৬৬ হাজার ১৮৯ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের হাতে জমিসহ ঘর তুলে দেন। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ২২৫ পরিবার এবং খুলনা জেলার ৯২২ পরিবার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার।
এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কাঠালতলা গ্রামে ১৪০ জন উপকারভোগীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণচন্দ্র চন্দ, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, কেএমপি কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খ. মহিদ উদ্দিন, খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, খুলনা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ প্রমুখ। ডুমুরিয়া প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল ওয়াদুদ।
উপকারভোগী খুলনার ৯২২টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা একক ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে তেরখাদা উপজেলায় ৪০টি, দিঘলিয়া উপজেলায় ৭০টি, ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৪০টি, ফুলতলা উপজেলায় ৪০টি, রূপসা উপজেলায় ৭২টি, পাইকগাছা উপজেলায় ২২০টি, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ১৫০টি, কয়রা উপজেলায় ৫০টি, দাকোপ উপজেলায় ১৪০টি পরিবার জমি ও ঘর পেয়েছেন। ১ লাখ ৭১ হাজার টাকায় নির্মিত ঘরে ২টি শয়ন কক্ষ ১টি রান্নাঘর, ১টি ল্যাট্রিন, পানি ও বিদ্যুতের সুবিধা রয়েছে।
