হানিফ ফ্লাইওভারে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:০৫

রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন-আক্তার হোসেন (৩৬) ও মফিজুল ইসলাম (৪০)। গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পথচারীরা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ বাসটি জব্দ করতে পারলেও বাসের চালক-হেলপার পলাতক রয়েছেন। জানা গেছে, নিহত আক্তার হোসেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউএস বাংলা মেডিক্যালের ল্যাব ইনচার্জ হিসেবে চাকরি করতেন। গতকাল বিকালে কাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। অপরদিকে নিহত মফিজুল কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে হানিফ ফ্লাইওভারের নিরাপত্তায় কাজ করতেন।

উদ্ধারকারী হানিফ ফ্লাইওভারে কর্মরত (কমিউনিটি পুলিশ) বদরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান জানান, ওয়ারী জয় কালী মন্দির সংলগ্ন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ব্রিজের ওপরে যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তানগামী মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলসহ চালক ছিটকে সেখানে কর্মরত কমিউনিটি পুলিশ সদস্যের ওপরে পড়ে। পরে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় জনতা যাত্রীবাহী বাসটি আটক করেছে। তবে দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বাসের চালক এবং হেলপার দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অপর একটি বাসের যাত্রী শাওন হাসান জানান, মোটরসাইকেলটি নারায়ণগঞ্জের দিক থেকে আসছিল। এসময় জৈনপুর পরিবহনের বেপরোয়া গতির বাস ঐ মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা                দিলে চালক ও আরোহী ফ্লাইওভারের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন। এতে আক্তার এবং মফিজুল দুজনই গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিত্সকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আক্তারের স্ত্রী ফরিদা পারভীন জানান, তিনি ঢামেক হাসপাতালের আউটডোরে সিনিয়র নার্স হিসেবে কর্মরত। তাদের বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলায়। আক্তারের বাবার নাম মৃত আব্দুর রউফ মিয়া। দুই ছেলেসহ পরিবার নিয়ে তারা আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার ৮৪/জে বাসায় থাকেন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল খান জানান, নিহত দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে আক্তারের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে কমিউনিটি পুলিশের বিস্তারিত ঠিকানা জানা যায়নি।