একরামুল চৌধুরীকে মাতাল বললেন কাদের মির্জা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:০৬

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে কটূক্তি করার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর সমালোচনা করে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘গতকাল বলেছিলাম আজকে প্রমাণ হয়েছে একরাম চৌধুরী একজন মাতাল। যে নেতা ওবায়দুল কাদের সারা জীবন দলের জন্য জীবন উত্সর্গ করেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, আজ সেই নেতাকে রাজাকার পরিবারের সদস্য বলে কটূক্তি করেছেন কুলাঙ্গার মাতাল একরাম চৌধুরী।’ গতকাল শনিবার কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বঙ্গবন্ধু চত্বরে সকালে এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জা আরো বলেন, আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৯ সালে ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। স্বাধীনতার পরে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ওবায়দুল কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপকে একত্রিত করেছেন। তিনি ৩০ মাস জেল খাটা অবস্থায় বাংলাদেশ            ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পর আরো এক বার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন বিমানবন্দরে শেখ হাসিনা অবতরণ করেন, তখন প্রচুর বৃষ্টি, ঝড় ও তুফান। সেদিন লাখ লাখ জনতার গগনবিদারি স্লোগান আমরা দেখেছি, সেদিন আপনাদের নেতা ওবায়দুল কাদের সভাপতি ছিলেন।

তিনি বলেন, আমি কিছুদিন আগে আমেরিকায় গিয়েছিলাম। সে সময় নেত্রীও আমেরিকায় ছিলেন। আমি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য, নেত্রী তখন বলেছিলেন আমির হোসেন আমু ও ওবায়দুল কাদের আমাকে বাংলাদেশে এনেছিল। কাদেরের প্রতি দায়িত্ব ছিল তাই আমি তার চিকিত্সার দায়িত্ব পালন করেছি। সে দিন আমি বুঝেছিলাম আমার নেতা ওবায়দুল কাদেরকে নেত্রী কত ভালোবাসেন। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের দুই বারের সাধারণ সম্পাদক, তিনি এক জন মুক্তিযোদ্ধা। রাজনীতি করতে গিয়ে ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় ওবায়দুল কাদেরের শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। এখন নোয়াখালীর তথাকথিত আওয়ামী লীগ নেতা, মাতাল একরাম চৌধুরী আমাদেরকে রাজাকার পরিবার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে গতকাল শনিবার বেলা ১০টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু চত্বরে অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়। অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেন আবদুল কাদের মির্জা। তিনি একরাম চৌধুরীকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার, বিচার ও জেলা কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি ঘোষণা করার দাবিতে আগামীকাল সোমবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন। পরে ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে হরতাল প্রত্যাহার করা হয়।

শনিবার বিকালে বসুরহাট পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। আবদুল কাদের মির্জার এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। স্বাধীনতাকালীন মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি কমান্ডার খিজির হায়াত খান বলেন, কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে একরাম চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং তার বিচার করতে হবে।