উত্তরের পাঁচ জেলায় রেকর্ড পরিমাণ চা উত্পাদন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:০৮

২০২০ সালে পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় সমতলের ১০টি চা-বাগান ও ৭ সহস্রাধিক ক্ষুদ্রায়তন চা-চাষির বাগান থেকে ১ কোটি ৩ লাখ বা ১০ দশমিক ৩০ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদিত হয়েছে। এ বছর চায়ের জাতীয় উত্পাদন হয়েছে ৮৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন কেজি। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের সমতলের চা-বাগান থেকে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ জাতীয় উত্পাদনে যুক্ত হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতেও এ বছর চা উত্পাদনে সবোর্চ্চ রেকর্ড হয়েছে।

পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী (উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায়) জেলার ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত চা-বাগান, ৭ হাজার ৩১০টি ক্ষুদ্রায়তন চা-বাগানে (নিবন্ধিত ১ হাজার ৫১০টি) মোট ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। এসব চা বাগানসমূহ থেকে ২০২০ সালে ৫,১২,৮৩,৩৮৬ কেজি সবুজ চা-পাতা উত্তোলন করা হয়েছে। যার মধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এর ১৮টি চলমান চা-কারখানার অবদান ১ কোটি ৩ লাখ কেজি। বিগত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৮৯ একর চা আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে ও ৭ দশমিক ১১ লাখ কেজি চা বেশি উত্পন্ন হয়েছে। 

পঞ্চগড়ের মৈত্রী টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোজাহিদুল হান্নান নিপুণ জানান, পঞ্চগড়ের মৈত্রী টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চা-কারখানা এবার উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা উত্পাদন করেছে। এ চা-কারখানা ২৫ লাখ ১২ হাজার ৪৭৯ কেজি চা উত্পাদন হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার ৪ ভাগের ১ ভাগ চা এই কারখানা থেকে উত্পাদন হয়েছে।

পঞ্চগড়স্থ বাংলাদেশ চা-বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দার্ন বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান, সমতল ভূমিতে চা-চাষের জন্য পঞ্চগড় ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। দিন দিন উত্তরাঞ্চলে চা চাষ ও উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য চাষিদের বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চাষিদের স্বল্পমূল্যে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। চাষিদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে’ হাতে-কলমে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান দিতে ইতিমধ্যে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এ আঞ্চলিক কার্যালয়ে একটি পেস্ট ম্যানেজমেন্ট ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে চা-চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, চাষের নানান রোগবালাই ও পোকা দমনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ বছর ক্ষুদ্র চাষিরা তাদের বাগানের উত্পাদিত কাঁচা পাতার ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় তারা চা চাষে উত্সাহিত হয়েছেন, চা বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বাগানের যত্ন নিয়েছে। এছাড়া পাতার দাম ভালো পাওয়ায় নতুন নতুন চা আবাদিও বাড়ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহের মানুষের যেমন একদিকে দারিদ্র বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়েছে তেমনি প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, কোভিড পরিস্থিতিতেও উত্তরবঙ্গের সব চা-বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা-বাগান পরিচর্যা ও পাতা তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে ২০২০ সালে চা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।