পৃথিবীর সর্বদক্ষিণের বরফাচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে সাত মাইল এলাকা ধরে বরফের উপরে রহস্যময় দাগ দেখা গিয়েছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে এমনটি দেখা যায়। এই দাগ নিয়েই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
এই ছবি দেখে সাংবাদিক জো পাপ্পালার্দোর বলেন, মনে হচ্ছে, কিছু একটা যেন দ্রুত নিচে নেমে বরফের উপর দিয়ে দ্রুতবেগে চলে গিয়েছে। সম্ভবত কোনও কিছু ভেঙে পড়েছে। তার ইঙ্গিত বিমান দুর্ঘটনার দিকেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৯ সালে অ্যান্টার্কটিকাতেই নিউজিল্যান্ডের ফ্লাইট ৯০১ বিমানটি ভেঙে পড়েছিল। বিমানের ২৩৭ জনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অ্যান্টার্কটিকায়ও মিলল করোনার খোঁজ
তবে পাপ্পালার্দোর তত্ত্ব নাকচ করে দিয়েছেন বিজ্ঞানী মার্ক ডিঅ্যান্টনিও। তিনি মনে করেন, ছবিটি খুঁটিয়ে দেখলে বিমান দুর্ঘটনার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিতেই হবে। কেননা আশপাশে এমন কোনও চিহ্নই নেই, যা বিমান দুর্ঘটনার সপক্ষে প্রমাণ দেয়।হয়তো এ বিষয়ে আরও অনেক দাবির দেখা পাওয়া যেত। বিশেষ করে ‘কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা’ অনেক সময়ই যে কোনও রহস্যময় ঘটনা সম্পর্কে আজগুবি দাবি করে থাকেন।
তবে এই রহস্যের সমাধান ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন নাসার বিজ্ঞানী ড. কেলি ব্রান্ট। তিনি নিজে ওই দুর্গম স্থানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। আর তখনই তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় বিষয়টি। তিনি জানিয়েছেন, ওই দাগ আসলে এক বিরল হিমবাহের। বহু টন বরফ একসঙ্গে জমে ওই ধরনে হিমবাহ তৈরি হয়। তারপর ইরাবাস পর্বতের উপর থেকে তা দ্রুত নেমে আসে নিচে। প্রবল গতিতে গড়িয়ে যায় সামনের দিকে।
ইত্তেফাক/এআর

