গতকালের পর
তখন আইনস্টাইন কী করলেন? বলল বিন্দু।
আইনস্টাইন কৌতুক করে বললেন, আপেক্ষিক তত্ত্ব সঠিক প্রমাণিত হলে জার্মানরা বলবে আমি জার্মান, সুইসরা বলবে আমি সুইস নাগরিক আর ফরাসিরা বলবে আমি বিশাল এক মহত্ বিজ্ঞানী। কিন্তু যদি ভুল প্রমাণিত হতো, তখন জার্মানি বলত আমি ইহুদি, সুইসরা বলত আমি জার্মান আর ফরাসিরা বলত আমি সুইস।
সীমা বলল-আইনস্টাইনকে কি এই জন্যই নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে?
না, বললেন নীলকান্তবাবু। আইনস্টাইনকে নোবেল পুরস্কার দেয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিলো।
কেন সংশয়? কমলা বললেন।
পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারের নিয়মটা হলো, এমন কাউকে দেয়া হবে যাঁর আবিষ্কার সরাসরি মানুষের কল্যাণে আসে। কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব যুগান্তকারী হলেও সরাসরি মানুষের কল্যাণে লাগেনি। তখন স্থির হলো আলোক তড়িত্ ক্রিয়াকে আবিষ্কার হিসেবে মানুষের কল্যাণে লাগানো সম্ভব। তাই তাঁর নাম ঘোষণা করা হলো।
চন্দ্রা বলল-যাক, শেষ পর্যন্ত পেয়েছেন তো!
বিন্দু বলল-কিন্তু তিনি পুরস্কারের টাকা দিয়ে কী করলেন?
কণিকা এতক্ষণ চুপ করেছিল। সে বলল-কী করবেন, সিঙ্গাড়া কিনে খেলেন!
সবাই হেসে ফেলল। নীলকান্তবাবু বললেন-বিবাহ বিচ্ছেদের শর্তানুযায়ী প্রথম স্ত্রী মিলেভাকে সকল অর্থ পাঠিয়ে দিলেন।
কমলা বললেন-কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের সময় আইনস্টাইন তো ভালো কাজ করলেন না। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে পরমাণু বোমা তৈরি করতে প্ররোচিত করলেন। নীলকান্তবাবু বললেন-না, বিষয়টি সেরকম সরল নয়। ফ্যাসিবাদী হিটলার ১৯৩৩ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার পর তাঁর দম্ভ প্রকাশিত হতে থাকে।
