বন্ড জালিয়াতি :একই গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠানের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৫৩

লক করা হয়েছে বিআইএন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আলোচিত প্রতিষ্ঠান লকপুর গ্রুপের প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের হদিস পাননি শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো বাংলাদেশ পলি প্রিন্টিং ইন্টারন্যাশনাল, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড ও মুনস্টার পলিমার এক্সপোর্ট লিমিটেড। রপ্তানিমুখী এ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধাপের অনুসন্ধানে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে কাঁচামাল বাইরে বিক্রি করায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি ধরা পড়েছে। এর বাইরে আলফা এক্সেসরিজ অ্যান্ড এগ্রো এক্সপোর্ট লিমিটেড নামে আরো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ২২ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। যদিও কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটি লকপুর গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নয়।

এসব অভিযোগে গত বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠান তিনটির বিআইএন (ব্যবসার নিবন্ধন নম্বর) লক করে দেওয়া হয়। ফলে  প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর ব্যবসা করতে পারছে না। তবে ব্যবসা স্থগিত করার বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেছে তারা। ইন্যুটি নিয়ে আদালতে এখন শুনানি চলছে। আগামী বুধবারও একটি শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লকপুর গ্রুপের আলোচ্য তিনটি প্রতিষ্ঠান মূলত প্যাকেজিং পণ্য তৈরি করে। শতভাগ রপ্তানিমুখী হওয়ায় বন্ড সুবিধার আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্যাকেজিংয়ের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করতে পারে। এসব এক্সেসরিজ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের কাছে বিক্রি করা হয়। এটি প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত। এর আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল বিওপিপি, আর্ট কার্ড, ইথাইল এসটেট, ডুপ্লেক্স বোর্ড, পেস্টিং গাম, থিনার, হোয়াইট লাইনার, পিপি ইঙ্কজেটসহ আরো বেশ কিছু কাঁচামাল আমদানি করেছে। কিন্তু বাগেরহাটের মোংলা কাস্টম হাউজের কর্মকর্তারা শুল্ক বিভাগের কাছে রক্ষিত (এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড) তথ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করে গুদামে বিপুল কাঁচামালের হদিস পাননি।

মোংলা কাস্টম হাউজের এক জন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে রপ্তানির শর্তে। কিন্তু পরিদর্শনে যে পরিমাণ কাঁচামাল গুদামে থাকার কথা, তা তারা দেখাতে পারেননি। অর্থাত্ এসব কাঁচামাল বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ কোটি টাকার শুল্ককর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানও প্রায় ২২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।