পি কে হালদারের দুই সহযোগী গ্রেফতার

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৩৬

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার বিকালে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল ইসলাম। এর আগে পিকে হালদারের অপর চার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ৪ জানুয়ারি শঙ্খ ব্যাপারি, ১৪ জানুয়ারি অবন্তিকা বড়াল এবং ২১ জানুয়ারি সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, পি কে হালদারের অন্যতম সহযোগী উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও রাশেদুল ইসলাম অর্থ আত্মসাতে পিকে হালদারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি তারা নিজেরাও প্রায় ৭০ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে গতকাল রবিবার দুপুরে দুদক কার্যালয়ে উপপরিচালক সালাহ উদ্দিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এলে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিকে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি কানাডায় পলাতক রয়েছেন। তবে ইতিমধ্যে তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।

এদিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাটসহ পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদগুলো ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন এ আবেদন করেন। এদিকে এ বছরের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। এর আগে ৫ জানুয়ারি পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। তারা যাতে বিদেশ না যেতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন অনুসারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।