জাতীয় সংসদে নিজ দলের সংসদ সদস্যদের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা-৬ আসনের এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর গতকাল রবিবার সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে জাপা নির্বাচন করেছে। জাপা সংসদে বিরোধী দলে বসেছে। এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু জাপার কারো কারো বক্তব্যে বোঝা যায় না, তারা কোন দলের সদস্য।
ফিরোজ রশীদ বলেন, জাপার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের নামও উল্লেখ করেন না। তারা জাপার নামও উচ্চারণ করেন না। অথচ তারা দল থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছি, কিন্তু নমিনেশন দিয়েছিল আমাদের দল। বিষয়টি দলীয় ফোরামে তুলবেন বলেও জানান তিনি।
জাপার এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকার উন্নয়ন করছে। এই উন্নয়নে জাপারও ভূমিকা আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা একবারও জাপার কথা বলেন না। এত কার্পণ্য কেন? এটা গণতন্ত্রের ভাষা না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাপা অংশ না নিলে নির্বাচন হতো না। সরকার, সংবিধান, সংসদ কিছুই থাকত না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেই জাপা সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করছেন। কিন্তু অর্থ লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। একটি সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে আত্মীয়স্বজনের অভাব হয় না। শালা-সম্বন্ধী সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্যাংকঋণের জন্য, পেয়েও যায়। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা চলে গেছে। শুধু পি কে হালদারকে ধরলে হবে না। পেছনে কারা আছে, তাও বের করতে হবে। হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেল। এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। সবকিছু অটোমেশন এখন। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ফিরোজ রশীদ বলেন, জনগণের টাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে। কিন্তু একটি বিশেষ কোম্পানি এখান থেকে লাভ উঠিয়ে নিচ্ছে।
স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বন্ধেরও দাবি জানান জাপার এ নেতা। তিনি বলেন, আমাদের কিছু সংগঠন আছে। একটি সংগঠন আছে নাস্তিক নির্মূল কমিটি। আরেকটি সংগঠন হচ্ছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এই নির্মূল করার ক্ষমতা এদের কে দিয়েছে? আমি জানতে চাই। তুমি কে নির্মূল করার? আমার দেশে কোর্ট-কাচারি আছে। অনেক বিচার করেছে এই সরকার। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হচ্ছে, রাজাকারদের বিচার হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, তুমি কেন? আমি মনে করি এদেরই প্রতিরোধ করা দরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, অনুরোধ করব, এসব সংগঠন বন্ধ করুন। যাতে কেউ মানুষ নির্মূল করতে না পরে। কীসের নির্মূল কমিটি?
