রক রাজারা কে কেমন আছেন?

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৫

তানভীর তারেক

কেউ কেউ আলোচনার স্বার্থেই হয়তো বলেন, বিশ্বব্যাপী রকগানের অবস্থা আর আগের মতো নেই। মিউজিকের প্যাটার্ন বদলে গেছে। হয়তো মিউজিক্যাল পরিসংখ্যানে কথাটি সত্য। কিন্তু আজম খান উত্তর আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, শাফিন, মাকসুদ, হাসানসহ অন্যান্যরা যে রক উন্মাদনা ছড়িয়েছেন দেশের শহর-গ্রামজুড়ে তা কী শুধুই মিউজিক জনরা’তেই আটকে ছিল? তা কিন্তু নয়।

তারুণ্যের মনোপীড়ন তারা বুঝতেন। আর বুঝতেন বলেই রকগানের স্বর্ণালি সময়ের প্রতিনিধিরা আজো একইরকম ক্রেজে বর্তমান। আইয়ুব বাচ্চু চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। বাকিরা এখনো প্রত্যেকে খোলা ময়দানে লাখ দর্শককে উন্মাতাল করার শক্তি রাখেন। তাই কেমন আছেন তারা? এই প্রশ্নটাই জানতে চাওয়া ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে। এই কনসার্টহীন প্রায় ১ বছরে তাদের ভেতরের হাহাকারটা কেমন অনুভব করছেন? মাকসুদুল হককে প্রশ্ন করতেই জানালেন, ‘নতুন গান আর হচ্ছে কই। ভাবছি। বিচ্ছিন্নভাবে হয়তো লিখছি। কিন্তু কনসার্ট মাঠে না গড়ালে তো আমাদেরও ভালো লাগে না। এর ভেতরে করোনার ভয়াল থাবাতে অনেক মিউজিশিয়ানেরও তো খুবই মানবেতর সময় গেছে। তাই নিজের মতো করেই আছি।’

শুধু মাকসুদ নন, বরং নাইন্টিজ রকের রাজারা প্রত্যেকেই নিজের ভেতরের এই বেদনা পুষেই বেঁচে আছেন। নিজের স্টুডিও, গিটার, নতুন গানের সুর এভাবেই চলছে কাজ। এর ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে বেশ ক’টি কনসার্ট করেছেন হাসান তার আর্ক ব্যান্ড নিয়ে। কেমন আছেন জানতে চাইলে হাসান বলেন, ‘ভালো থাকার চেষ্টায় আছি। কিছু পুরনো গানের নতুন অ্যারেঞ্জমেন্ট করছি। তবে আমাদের ব্যান্ড প্র্যাকটিস চলছে নিয়মিত। এখানে কোনো ছাড় দিইনি। গানটাকেই যেহেতু জীবনের অঙ্গ হিসেবে ধারণ করেছি। তাই এর বাইরে তো কোনো কিছু ভাবতে পারিনি। ভাবতেও চাই না।’

তবে এর ভেতরে বরাবরের মতোই গুছিয়ে কাজ করা রকস্টার শাফিন আহমেদ তার নিজেস্ব লেবেল কোম্পানি থেকে। একাধিক গান রিলিজ দিয়েছেন এই রকস্টার। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিকমানের ইন্সট্রুমেন্টালের কাজ শেষ করলেন। শাফিন আহমেদের নির্দেশনায় এটি বাংলা মিউজিক এরিনাতে এক অনন্য কাজের স্বাক্ষর হয়ে থাকবে। শাফিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা তো বসে থাকার মানুষ না। ভেতরে যেহেতু সুর আছে, সৃজনীলতা আছে। তাই নিজের মতো করেই কাজ করে যাচ্ছি। নিয়মিতই দর্শক-শ্রোতাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি ও থাকবো।’

এদিকে নগরবাউল জেমস গত কয়েকমাসে একাধিক শোয়ের অফার ফিরিয়ে দিয়েছেন। জেমস কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি একা নিজের ভেতরে আছি। কোনো কনসার্ট করিনি, করছিও না। কারণ আমাদের শোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা মুশকিল। কনসার্ট থেকে একজন দর্শকও যদি কোনো সংক্রমিত হয়, কে নেবে সেই অপবাদ। তাই নিজের মতো আছি। তবে ভ্যাকসিন চলে এসেছে। নিশ্চয়ই খুব শিগগিরই  সব স্বাভাবিক হবে। আবারো মাঠে উল্লাস হবে।’

কনসার্ট খরার অভিযোগ করোনা ক্রান্তিকালের আগে থেকেই ছিল। সেক্ষেত্রে নিউ নরমাল সময়ে আবারো নতুনভাবে রকগানের আসর হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা। অন্যদিকে ইউটিউব নির্ভর অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন রক রাজাদের কোনো গানের মুক্তি নেই। প্রকাশের কোনো উদ্যোগও নেই। এই বিষয়গুলো একজন রকলাভার শ্রোতার প্রত্যাশা থাকতেই পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত এ সকল রকস্টারের প্রত্যেকেরই চলতি সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিরিজ কনসার্টের অফার থাকতো। কিন্তু সেটিও বন্ধ গত ১ বছর। নতুন সময়ে আবারো সচল হয়ে সংগীতের নিয়মিত পারফর্মেন্সে ফেরার দিনই যেন গুনছেন রকস্টার ও রকলাভার শ্রোতা-দর্শকরা।