রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে গোলচত্বরে ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) শাহবাগ থানার সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলামকে পরিকল্পিকতাবে হত্যা করা হতে পারে বলে মনে করছে পরিবার। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের কেউ এ ঘটনার নেপথ্যে থেকে তাকে হত্যা করতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, ঠিক কী কারণে বা কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে—বিষয়টি নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। পুলিশ ধারণা করছে, পেশাদার ছিনতাইকারী গ্রুপের হাতে হামিদুল ইসলাম খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। হত্যার ঘটনায় নিহতের ছেলে নাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন। গতকাল এই মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত ২৩ জানুয়ারি শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাইকোর্টের সামনের রাস্তায় ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয় ।
নিহতের ছোট ভাই ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, নিহত হামিদুল ইসলাম (৫৭) জাসদের শাহবাগ থানার সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর কলেজ রোডে। বাবার নাম মৃত রফিকুল ইসলাম। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন হামিদুল। মেয়ে নায়না ইসলাম (২৪) ও ছেলে নাহিদুল ইসলাম (২১)সহ স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে নিয়ে সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের পাশে বসতি-ময়ূরী অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন তিনি। ১৯৯০ সালের পর থেকে তিনি সেগুনবাগিচা ও এর আশপাশের এলাকাতে ডিস লাইনের ব্যবসা করেন। শনিবার রাত ৮টার দিকে হাইকোর্ট মাজারের সামনে দেখা করে হামিদুলকে বাসা ভাড়ার ১২ হাজার টাকা দেন ম্যানেজার সাদেক। পরে সাদেক সিদ্দিকবাজারের দিকে ও হামিদুল তার বাসার দিকে চলে যান। এরপরই হাইকোর্টের মোড়ের কাছে রাস্তায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু হতে পারে। নিহতের পকেটে ১৬ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। পরিকল্পিতভাবে হত্যা হলে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকত। সাধারণত ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হলে ছিনতাইকারীরা তাকে শায়েস্তা করতে হাত-পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে থাকে।
এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে কারও শত্রুতা আছে বলে আমরা শুনিনি। তার শরীরে ছুরির আঘাতের চিহ্ন দেখে আমাদের মনে হচ্ছে এটি ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাত।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মামুন অর রশিদ বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে ছিনতাইকারীরা জড়িত থাকতে পারে। তবে হামিদুল যেহেতু ডিশ ব্যবসায়ী ছিলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যাবসায়িক বিরোধের কোনো ঘটনা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে রাজনীতি থাকতে পারে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে মামলাটি তদন্তের জন্য সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
