১০ মাস পর সশরীরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৫

নিবন্ধন ছাড়া ট্যুর অপারেটর কোম্পানি পরিচালনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাসের জেল বা ২ লাখ টাকা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২১’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে প্রায় ১০ মাস পর গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে সশরীরে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে মন্ত্রিসভার নিয়মিত এ বৈঠকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে         ছয়জন মন্ত্রী ও ছয়জন সচিবও অংশ নিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব (মন্ত্রিসভা বৈঠক অধিশাখা) মনিরা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে এজেন্ডা রিলেটেড মন্ত্রী ও সচিবরা অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গত বছরের ৬ এপ্রিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এরপর থেকে বৈঠকগুলো ভার্চুয়ালি হয়েছে। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হতেন প্রধানমন্ত্রী।

পর্যটকদের স্বার্থে ট্যুর অপারেটর আইন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনায় ট্যুর অপারেটর ও গাইড আইনের আওতায় পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। ট্যুর অপারেটর কোম্পানি কীভাবে পরিচালনা করা হবে, দেশি-বিদেশি ট্যুর অপারেটরদের কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে, কীভাবে নিবন্ধন দেওয়া হবে- আইনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ট্যুর অপারেটররা যদি কোনো অপরাধ করে তাহলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। অপরাধের বিচার হবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে।

বয়লার ব্যবহারে অনিয়ম করলে জেল-জরিমানা

শিল্প-কারখানায় ব্যবহূত বয়লারের গা থেকে নিবন্ধন নম্বর অপসারণ, পরিবর্তন, বিকৃত বা অদৃশ্যমান করে ব্যবহার করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘বয়লার আইন, ২০২১’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯২৩ সালের আইন দিয়ে বয়লার চালানো হতো। অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে বলে নতুন আইন করা হচ্ছে। শিল্প-কারখানার বয়লার দুর্ঘটনার ঝুঁকিহ্রাস, বয়লার ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি; মানসম্মত বয়লার তৈরি, আমদানি, ব্যবহার ও পরিচালনা এবং শিল্প-কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টির জন্য নতুন আইন করা হচ্ছে।’