জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে জন্ম তারিখ পরিবর্তনের অভিযোগে বগুড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) কার্যক্রমে বয়সের অসংগতি ধরা পড়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা বয়স্ক ভাতা পেলেও এখন বাদ পড়ার সংবাদে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
জেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে বয়স্ক লোকদের জন্য এই ভাতা চালু করা হয়। বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত বয়স ৬৫ এবং নারীদের জন্য ৬২ বছর। তথ্য অনুযায়ী বগুড়া জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৪ জনের বয়স্ক ভাতার কার্ড রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত উদ্যোক্তারা জানান, অনলাইনে সমাজসেবার সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভাতাভোগীর বই নম্বর, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে সব তথ্য বের হয়ে আসে। এভাবে এমআইএস কার্যক্রমে বয়সের অনুপযোগী শনাক্ত হওয়ায় ৯ হাজার ৫০০ কার্ডের ভাতা বাতিল করা হয়েছে।
ডিজিটাল নিয়মে ডাটাবেজ করতে গিয়ে মূল জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিলছে না ভাতাভোগীদের জন্ম তারিখ। এর মধ্যে ধুনট উপজেলায় ৭৮৪ জনের বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নে ১২০ জন এবং সবচেয়ে কম পৌরসভায় ২৬ জন। অন্যান্য ইউনিয়নের মধ্যে ধুনট সদরে ৭০ জন, চৌকিবাড়ীতে ৬১ জন, এলাঙ্গীতে ৬৫ জন, নিমগাছিতে ৬২ জন, গোসাইবাড়ীতে ১০১ জন, কালেরপাড়ায় ৪৩ জন এবং মথুরাপুরে ৯২ জন।
বাতিলকৃত ভাতাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বয়স্ক ভাতার জন্য তারা জনপ্রতিনিধিদের কাছে ৫-৬ হাজার করে টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জমা দিয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা অর্থের লোভে এনআইডি জালিয়াতির মাধ্যমে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে বয়স বাড়িয়ে বয়স্ক ভাতা করে দিয়েছেন। কিন্তু এখন সেই কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান ৯ হাজার ৫০০ বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিলের কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এসব কার্ড নতুন করে অন্যদের মধ্যে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী মাসের মধ্যে এসব বয়স্ক ভাতার কার্ড পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে।
