অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) ও তাকে সহযোগিতা করায় মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচ মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদিকে পি কে হালদারের আরো দুই সহযোগীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে দুদক সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে তথা তাকে সহযোগিতায় ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে কমিশন। পি কে হালদার বিভিন্ন কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এছাড়া পি কে হালদারের সহযোগীদের অর্থ লোপাটের বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ৮৩ জন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ জনের হিসাবে ১০৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ফ্রিজ হয়ে রয়েছে। অপরদিকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের এমডি, সিএফওসহ ১০ জনের বিদেশ যাত্রা রোধ করার জন্য ইমিগ্রেশনে পত্র দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের দায়েরকৃত ঐ পাঁচ মামলার মধ্যে আনান কেমিক্যালের নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা, সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের নামে ৬৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, মেসার্স বর্ণ এর নামে ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, রাহমান ক্যামিকেলস লিমিটেডের নামে ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও মুন এন্টারপ্রাইজের নামে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সাবেক এম এ হাশেম সাবেক এমডি মো. রাশেদুল হক, ৯ জন বোর্ড মেম্বার, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীসহ, পি কে হালদারের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীসহ মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, পাঁচটি ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় মোট ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাত্ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে পি কে হালদারের আরো দুই সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে যাওয়া এ দুই জন হলেন, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক। গতকাল সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ২৪ জানুয়ারি সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাত্ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঐ মামলায় গতকাল সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
