চীন ও ভারতের সীমান্তে উত্তর সিকিমের নাকুলাতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে দিনপাঁচেক আগে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের সেনারাই আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে এটিকে অবশ্য তুচ্ছ ঘটনা বলে বর্ণনা করে সংঘর্ষকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে নাকুলার ঘটনা নিয়ে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি। খবর বিবিসির
ভারতীয় সেনা এদিন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নাকুলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল অনুসরণ করে স্থানীয় কমান্ডাররাই বিষয়টির মিটমাট করে নিয়েছেন। তবে গত সাত মাসের মধ্যে এই প্রথম ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে চীন সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করে নেওয়া হলো। এর আগে গত বছরের জুন মাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। সেই সংঘর্ষে চীনের দিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। সেই সংঘর্ষের পরে সীমান্তে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক স্তরে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা অবশ্য এখনো অব্যাহত আছে। বস্তুত ২৪ জানুয়ারি, রবিবার লাদাখের কাছে সীমান্তবর্তী চীনা শহর মালডোতে ঐ আলোচনার নবম রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেই বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে বলে কোনো ইঙ্গিত নেই।
ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—সীমান্তের বিতর্কিত এলাকাগুলো থেকে চীনকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নতুন করে কোনো সামরিক স্থাপনা তৈরি করা যাবে না; কিন্তু চীন তাতে কর্ণপাত করছে বলে মনে হচ্ছে না। বস্তুত লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত সুদীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় তারা নতুন নতুন রাস্তা, সারফেস টু এয়ার মিসাইল পজিশন, হেলিপ্যাড স্থাপন করে যাচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমও রিপোর্ট করছে। এদিকে উত্তর সিকিমের নাকুলায় চীনা ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর সামনে আসার পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আবারও কটাক্ষ করে টুইট করেছেন।
