ভুক্তভোগী পথচারী, আতঙ্কে এলাকাবাসী
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
আবারও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রেল স্টেশন এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং জয় গ্রুপের সদস্যরা। ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরালসহ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল কিশোর গ্যাং লিডার জয় ও তার সহযোগীরা।
প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে আবারও এলাকায় ফিরে এসে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতি রাতেই এলাকায় মহড়া দিচ্ছে বলে জানা যায়। সূত্র জানায়, জয় গ্রুপের সদস্যরা এলাকায় ফিরে স্থানীয় অনেককেই শাসিয়েছে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমসহ স্থানীয় প্রশাসনকে যারা তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে তাদেরকে রাস্তা কিংবা বাসা-বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে যে, সময়-সুযোগ পেলে কুপিয়ে রেললাইনের আশপাশে ফেলে রাখবে। আর তাই নতুন করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, পুলিশের খাতায় এদের তালিকা না থাকায় কিংবা বয়স কম হওয়ায় এরা গ্রেফতারের বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে গ্রেফতার হলেও জামিনে ফিরে এসে আবার আগের মতো শুরু করে নানা অপরাধ। রাতের অন্ধকারে গার্মেন্টসফেরত নারী শ্রমিকরা যেমন নিরাপদ নয় তেমনি সাধারণ পথচারীরাও তাদের হাতে জিম্মি। তারা নারীদের শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণসহ কেড়ে নিয়ে যায় মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার। পথচারীদের কাছ থেকেও ছিনিয়ে নেয় মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা। কখনো পথচারীদের কাছে টাকাপয়সা না থাকলে তাদের মাদক ব্যবসায়ী আখ্যায়িত করে তার পরিবারের কাছ থেকে দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। তাদের হাতে নাজেহাল হলেও প্রভাবশালী মহলের ভয়ে নির্যাতিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও টু শব্দটি পর্যন্ত করে না কেউ। কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় নির্যাতিত-ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই আইনের সাহায্য নিতে চায় না।
এসব কিশোর অপরাধী নির্মূলে র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তত্পর থাকলেও ফতুল্লা রেল স্টেশন এলাকায় তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।
গত বছর ১৮ অক্টোবর রাতে অস্ত্র ঠেকিয়ে অজ্ঞাত এক গার্মেন্টকর্মীর কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। একই বছর ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকার উত্তরা থেকে এক ব্যক্তি ব্যাবসায়িক কাজে ফতুল্লা রেল স্টেশন আসেন। এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ব্যবসায়ীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ ৩৭ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ১০ অক্টোবর বিকালে দুই স্কুলছাত্রকে পকেটে গাঁজা ঢুকিয়ে মাদক সেবনকারী আখ্যা দিয়ে তার পরিবার থেকে ৩০ হাজার টাকা এনে ছেড়ে দেয়। স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
