বিষমুক্ত সবজি বিক্রির পৃথক বাজার প্রয়োজন

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৪৩

কুমিল্ল­ার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামে উত্পাদিত হবে ১২০০ মেট্রিক টন বিষমুক্ত সবজি। এরকম আরো ১০টি ইউনিয়নে বিষমুক্ত সবজির চাষ হচ্ছে। ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের টামটা, বিটমান, বাশরা, ভিকতলা ও নয়াকান্দি গ্রামের মাঠে সবজিচাষিরা পোকামাকড় দমনে এসব নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। দূষিত হচ্ছে মাটি, পানি ও বাতাস। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতেই বিষমুক্ত নিরাপদ সবজির চাষ। সবজির মধ্যে রয়েছে টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, খিরা, লাউ, স্কোয়াস ইত্যাদি। মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। জমিতে লাগানো হয়েছে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ ও নেট হাউস। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক।

কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, জৈব বালাইনাশক ও নগদ অর্থ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এসব ব্যবহার পদ্ধতির ওপর কিষান-কিষানিদের সাতবার হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার কেন্দ্রীয় আইপিএম ক্লাবের সভাপতি কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, আমরা বিষমুক্ত ফসল উত্পাদনে ২০ বছর আগে থেকে আন্দোলন শুরু করেছি। উপজেলায় আইপিএমের ১৬০টি সংগঠন রয়েছে।

জানা যায়, পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উত্পাদন প্রকল্প তথা আইপিএম কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় করতে সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এদিকে নিরাপদ সবজি বিক্রির পৃথক বাজার স্থাপন নিয়ে কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন। ভালো দাম না পেলে তারা এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, হাউজিং এস্টেট, কুমিল্ল­া