যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী হিসেবে জ্যানেট ইয়েলেনের নিয়োগ নিশ্চিত করেছে মার্কিন সিনেট। সোমবার উচ্চকক্ষ সিনেটে ৮৪-১৫ ভোটে ইয়েলেনের নিয়োগ নিশ্চিত হয়। সিনেটে ভোটের আগে তিনি সিনেটের অর্থসংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন পান। ৭৪ বছর বয়সি ইয়েলেন কখন দায়িত্ব নেবেন সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
জ্যানেট ইয়েলেন ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত চার বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজারসের প্রধান ছিলেন। সর্বশেষ আর্থিক মন্দা থেকে মার্কিন অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বেকারত্ব কমানোর ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন অর্থনীতি ঠিকঠাক রাখতে বাইডেন প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দেবেন। এরই মধ্যে জো বাইডেন প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারের রিলিফ প্যাকেজের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে কংগ্রেসের শুনানিতে ইয়েলেন এই রিলিফ প্যাকেজ পাশ করার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে ইয়েলেন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের প্রথম নারীপ্রধান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি কর্মীদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈষম্য বৃদ্ধির কারণে কী ক্ষতি হচ্ছে সেটা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়ার আগে ইয়েলেন এক দশক ফেডারেল রিজার্ভের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন; এর মধ্যে ভাইস-চেয়ার হিসেবে ছিলেন চার বছর। রীতি অনুযায়ী ২০১৮ সালের পর আরো চার বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে থাকার কথা থাকলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েলেনকে নিয়োগ দেননি।
ইয়েলেনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি, উভয় অংশকে সন্তুষ্ট রাখতে সক্ষম একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার পদে নিয়োগ পাওয়ার সময়ও তিনি বেশ কিছু রিপাবলিকানের সমর্থন পেয়েছিলেন। ইয়েলেনের স্বামী জর্জ আর্থার অ্যাকারলফ একজন মার্কিন অর্থনীতিবিদ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোনিয়া, বার্কলে এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০০১ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) সিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বাইডেনের মনোনীত অ্যান্টনি ব্লিনকেনের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে তিনি সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির অনুমোদন পেয়েছেন।
