কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কলুষিত করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কৃষকনেতারা
বিবিসি
ভারতে নতুন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে মঙ্গলবার সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন কৃষকনেতারা। একই সঙ্গে তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাক্টর মিছিল নিয়ে দিল্লিতে প্রবেশের চেষ্টা করে আন্দোলনরত কৃষকরা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস আর মোড়ে মোড়ে বসানো কাঁটাতারের ব্যারিকেড ভেঙে দিল্লির ঐতিহাসিক রেড ফোর্টে পৌঁছে যায় বিক্ষোভকারী। ভেতরে প্রবেশের পর দুর্গের চূড়ায় উড়িয়ে দেওয়া হয় কৃষক আন্দোলনের পতাকা। এদিন এক আন্দোলনকারী কৃষকের মৃত্যুও হয়। কৃষকদের দাবি, পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলেছে, আইটিও মোড়ের কাছে একটি দ্রুতগামী ট্রাক্টর উলটে গেলে ঐ কৃষকের মৃত্যু হয়।
এক বিবৃতিতে সংযুক্ত কিসান মোর্চা দাবি করেছে, সহিংসতার পেছনে রয়েছে সমাজবিরোধীরা। কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কলুষিত করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কৃষক নেতারা। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, ‘যে অনাকাঙ্খিত ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে তার জন্য নিন্দা জানাচ্ছি ও অনুশোচনা প্রকাশ করছি। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত করেছে তাদের থেকে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করছি।’ তবে কৃষক সংগঠনগুলো জানিয়ে দিয়েছে কোনোভাবেই তাদেরকে আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে দাবি করো হয়েছে, সমাবেশের জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল তা কৃষকরা লঙ্ঘন করে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়ায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে কৃষক সংঘের নেতা কাওয়ালপ্রিত সিং পান্নু পালটা অভিযোগ করেছেন, পুলিশই সহিংসতা উসকে দিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হামলা হলে সরকারের জন্য সমস্যা নিশ্চিতভাবে বাড়বে। এখানেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আমাদের আন্দোলন ও বার্তা আরো জোরালোই হবে।’
ভারতের নতুন প্রবর্তিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লি সীমান্তে গত দুই মাস ধরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে কৃষকেরা। দিল্লির প্রবল ঠান্ডার মধ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কৃষকদের সঙ্গে ভারত সরকারের ১১ বার বৈঠক হলেও সেখানে আইন প্রত্যাহার নয়, স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে তা মেনে নিতে অস্বীকার করে আসা কৃষকেরা প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাক্টর-র্যালি কর্মসূচি ঘোষণা করে।
