নির্বাচনি সহিংসতায় বরগুনার পাথরঘাটায় পুলিশ সাংবাদিকসহ শতাধিক আহতের ঘটনায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও দুই জন আটক এবং বরিশালের গৌরনদীতে সহিংসতায় পাঁচ জন আহত, চারটি হোন্ডা ও একটি বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়েছে।
বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে বুধবার পাথরঘাটা থানায় মামলা করা হয়েছে। দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার জানান, সরকারি কাজে বাধাদান, পুলিশের ওপর হামলা এবং অস্ত্রের মহড়া দেখিয়ে লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে এ মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য প্রাথমিক চিকিত্সা নিলেও ওসিসহ আট জন এখনো চিকিত্সাধীন আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আ’লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে পৌর শহরে মিছিল বের করে। এ সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আকনের সমর্থনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেয়। পুলিশ উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ সোহেলের সমর্থনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটাসহ শহরের দিকে অগ্রসর হয়। অন্যদিকে শহরের রাসেল স্কয়ারে নৌকার সমর্থকরা অবস্থান নেয়। এ সময় কয়েক দফা বাধার মুখে সোহেল সমর্থকরা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ৫০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় ২০ জন পুলিশ এবং দুই সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএফডিসি শ্রমিক ঘাট ইউনিয়ন কার্যালয় এবং অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল।
এদিকে গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, গৌরনদী পৌর এলাকার দক্ষিণ দিয়াশুরে মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনি সহিংসতায় পাঁচ জন আহত এবং চারটি হোন্ডা ও একটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় দুটি বোমাও বিস্ফোরিত হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ইখতিয়ার হাওলাদার ও আমিনুল হক আলামিন হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষে পাঁচ জন আহত ও চারটি হোন্ডা ভাঙচুর করা হয়। অন্যদিকে ইখতিয়ার হাওলাদারের সমর্থকরা আলামিন হাওলাদারের সমর্থক কাওছারের বসতঘর ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
