দারিদ্র্যহার বাড়ার তথ্য অযৌক্তিক :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪৭

করোনার প্রভাবে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার মতে, দেশে কেউ না খেয়ে নেই, তাই দেশে দারিদ্র্যহার বৃদ্ধির তথ্য সঠিক নয়। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদকিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের জরিপ অনুযায়ী করোনার প্রভাবে দেশের ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে এমন তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা কয়টা গ্রামে গেছে, কত জনের সঙ্গে কথা বলেছে। কীভাবে  এ তথ্য সংগ্রহ করল সেটা আমাদের জানা দরকার। আমাদের দেশের মানুষের সংখ্যার তুলনায় ৫০০-৭০০ মানুষের মতামত পুরোটাই অযৌক্তিক। এ তথ্যে দেশের প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠেনি। করোনার কারণে যদি কেউ না খেয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে বলা যেত গরিব বেড়েছে।’ দারিদ্র্যহার নিয়ে সরকারি তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দারিদ্র্যের হিসাব করে, কিন্তু তারা এই করোনাকালে কোনো হিসাব করেনি। যখন জরিপ করবে, তখন বলা যাবে দেশে প্রকৃত দরিদ্র্য কত। করোনার টিকা গ্রহণের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখনো সবার আগে নিতে চাই।’

এদিকে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বর্ণ নীতিমালা, ২০১৮ সংশোধনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, অপরিশোধিত আকারে স্বর্ণ আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে অপরিশোধিত স্বর্ণ এনে পরিশোধন করা যাবে।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সাতটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের ২৩ হাজার ৬৫০টি এসপিসি পোল, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড থেকে ৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের জন্য ৯টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ডেমরা পুলিশ লাইনস এলাকায় ২০তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজ ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ শহর এলাকায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য উন্নত জীবনব্যবস্থা (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের পরামর্শক সেবা ক্রয়ের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৩ কোটি ৪ লাখ টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরীগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্পের একটি প্যাকেজ ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের (দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশ) চার বছরের জন্য পারফরম্যান্স বেইজড অপারেশন ও দৃঢ়করণ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম অংশের ও কুমিল্লা অংশের পৃথক পূর্ত কাজের দুটি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক ক্রস-বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (বাংলাদেশ) প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১৮ কোটি ৮৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।