ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে দরকারি উপাদান কৃষিমাটি। আমরা এদিকে নজর না দিয়ে জৈব অজৈব সার নিয়ে বেশি মাতি। কৃষিমাটি হলো কর্ষণতল ভূমির ওপর থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত যেখানে কৃষিফসল উত্পন্ন হয়। যেমন বেগুন যেখানে হয়, ছাদে বেগুন করতে ঐরকম জমির মাটি ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য সবজি, ফলের গাছের বেলায় একই কথা। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পটিং মিকচার মানে মাটি তৈরি করা। সংগৃহিত মাটিতে নানা উপাদান মেশাতে হয়, যেগুলো পরবর্তী সময়ে গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করবে। কৃষিমাটিতে গোবর সার বা জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট, সামান্য রাসায়নিক সার টিএসপি/ডিএপি, এমওপি, সরিসার খৈল, কোকোপিট (প্রয়োজনবোধে) মেশাতে হবে। গাছ লাগানোর জন্য বেছে নেওয়া উত্তম পোড়ামাটির টব বা সিমেন্টের টব।
প্রথমে সংগৃহিত উপাদান ভালো করে রোদে শুকাতে হবে (রাসায়নিক সার বাদে)। মাটি চালুনি দিয়ে বেছে নিতে হবে। যেন বড় দানাগুলো আলাদা হয়। এরপরে জৈব উপাদান ৩০-৪০ শতাংশ, বাকি মাটি মেশাতে হবে প্রতি ১০০ কেজি মাটিতে ১৫০ গ্রাম টিএসপি, ১০০ গ্রাম এমওপি সার ও ২৫০ গ্রাম সরিসার খৈল গুঁড়া। সব কিছু মেশানো মাটি সামান্য পানি দিয়ে অন্তত ১৫ দিন রেখে দিতে হবে। আরেকটা কথা—টবে মাটি ভরাট করার আগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। টবের ছিদ্রের মুখে দিতে হবে নারিকেলের ছোবড়া। এই ধরনের মাটি ফল-ফুল-সবজির গাছের জন্য ব্যবহার করা যাবে। সব গাছ কিন্তু একই মাটিতে ও পরিবেশে হয় না। ভালো মানের চারা হতে হবে। জাত নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ছাদে যেখানে পর্যাপ্ত আলো, বাতাস আসে এমন জায়গায় গাছ লাগাতে হবে। মাটি ছাদের কোনো ক্ষতি করে না, তবে উর্বর মাটি ছাদে পড়লে ভেজা থাকলে শৈবাল জন্মে ও সবুজ শেওলা হয়, যার শিকড়ের টকসিন সিমেন্টের মজবুতি নষ্ট করে ধীরেধীরে। গাছের গোড়াপচা, কাণ্ডপচা, ফুলপচা, ফলপচা— ছত্রাক জাতীয় রোগে ছত্রাকনাশক দিতে হবে। জাব পোকা, সাদা মাছি গাছের চরম শত্রু। এদের দমনে ইমিডাক্লোরোপিড গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। পাতা হলুদ হওয়া, ফুল, ফল ঝরে যাওয়ার কারণ হতে পারে গাছ পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে না। মাটিতে খাদ্যের অভাব পূরণে নিতে হবে ব্যবস্থা।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
বাড়ি ১০২, সড়ক ১১, বনানী, ঢাকা
