ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই :রাজ্জাক

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ২২:২৫

এখন তো নির্বাচক হিসেবে বন্ধুকেও খেলোয়াড় হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে? প্রশ্নটা শুনেই মুঠোফোনের ও-প্রান্তে আবদুর রাজ্জাক হেসে উঠে বললেন, ‘এটা বড় সিদ্ধান্ত, হা-হা-হা।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মুর্তজা, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেলের ‘বন্ধুতা’ সর্বজন পরিচিত। একই অঞ্চল থেকে উঠে আসা তিন ক্রিকেটার একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলেছেন। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে চলে আসলেও মাশরাফি খেলার মধ্যেই আছেন।

খেলাকে বিদায় জানাননি রাজ্জাকও। তবে বাঁহাতি এ স্পিনারের নামের পাশে খুব শিগিগরই ‘সাবেক’ শব্দটা যুক্ত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গত বুধবার বোর্ড সভা শেষে বিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্জাকের নামটা সাবেক ক্রিকেটার হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ৩৮ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারকে। অবসর না নেওয়া পেসার মাশরাফিকে মূল্যায়নের ‘মধুর’ সমস্যায় পড়তে হতে পারে রাজ্জাককেও। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গী হয়েছেন তিনি।

গতকাল বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘নির্বাচকের পদে যোগ দেয়ার আগে তাকে (রাজ্জাক) অবসর নিতেই হবে।’ গত বছর মার্চে করোনায় স্থগিত হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছেন রাজ্জাক। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের আগেও ফিটনেস টেস্ট দিয়ে পাশ করেছিলেন।

দ্রুতই নির্বাচক পদে কাজ শুরু করবেন এ বাঁহাতি স্পিনার। তার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিতে হবে তাকে। গতকাল অবসর প্রসঙ্গে রাজ্জাক বলেন, ‘এটা নির্ভর করবে, ক্রিকেট বোর্ড থেকে আমাকে ডাকবে অবশ্যই। ডাকলে ঐ অনুযায়ী আমি পদক্ষেপ নেব। স্বাভাবিকভাবে এই পদে কাজ করতে হলে তো আমাকে রিটায়ার করতেই হবে। রিটায়ার করেই জয়েন করতে হবে। যখন ডাকবে, তখন সবকিছু ঠিক করে জানিয়ে দিব।’

নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা একটা মর্যাদাপূর্ণ পদ। আরো একটা বড় বিষয় হলো যে, আমি সবসময় চেয়েছি খেলা শেষ করে আমি ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চাই। সেটার বড় রকম একটা সুযোগ আমাকে করে দেওয়ার জন্য ক্রিকেট বোর্ডকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

জাতীয় দলের বর্তমান দুই নির্বাচক নান্নু-হাবিবুলের সাহায্যে এগিয়ে যেতে রাজ্জাক। ২২ গজের মতো নির্বাচকের পদে থেকেও দেশের ক্রিকেটে অবদান রাখাই তার মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে ২৭৯ উইকেট, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬৩৪ উইকেটের মালিক এ স্পিনার বলেছেন, ‘আমার চাওয়া যাতে ক্রিকেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারি। যখন খেলছি, চেষ্টা করছি অবদান রাখার, আল্লাহর রহমতে খুব খারাপ হয়নি। এখন হলো খেলা ছাড়লেও কাজ করে, কোনো না কোনোভাবে যেন এই অবদান রাখার ধারাবাহিকতা রাখতে পারি। আমার মাধ্যমে যেন দেশের ক্রিকেট, জাতীয় দল উপকৃত হয় এটাই টার্গেট।’