এ কেমন বাবা-মা!

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ২৩:০৫

রংপুরের বদরগঞ্জে মেয়ে সন্তানের জন্ম হওয়ায় শীতের রাতে এক দিনের শিশুকে ফেলে পালিয়েছে বাবা-মা। গত বুধবার  রাতে নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

শিশুটির বাবার নাম প্রদীপ বিশ্বাস। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধোবাকল গ্রামে তার বাড়ি। শিশুটি বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জোবেদা বেগমের হেফাজতে আছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে দত্তক নিতে অনেক নিঃসন্তান দম্পত্তি প্রতিযোগিতায় নামেন বলে জানা যায়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ধোবাকল গ্রামের নিরাপদ বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস তার গর্ভবতী স্ত্রী পল্লবীকে নিয়ে গত বুধবার বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। ঐ দিনই পল্লবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে স্বাভাবিকভাবে পল্লবী একটি ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন। যখন তারা জানতে পারেন সন্তান ছেলে নয়, মেয়ে   হয়েছে তখন মা-বাবার মধ্যে আনন্দের পরিবর্তে নেমে আসে বিষাদ। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিশুটির বাবা প্রদীপ বিশ্বাস। তাদের ঘরে পপি রানী (৯) ও দীপা (৫) নামে আরো দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এবারে তাদের আশা ছিল ঘর আলো করে ছেলে সন্তানের জন্ম দেবে পল্লবী। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় হতাশায় ভেঙে পড়েন তারা। তিন মেয়ে নিয়ে কী করবেন—এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী চিন্তায় পড়ে যান। এক পর্যায়ে বাগিবতণ্ডা শুরু করেন তারা। বিষয়টি জানতে পারেন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জোবেদা বেগম। এক পর্যায়ে কনকনে ঠান্ডা রাতের কোনো এক সময়ে ছাড়পত্র না নিয়েই প্রদীপ ও পল্লবী সন্তানটিকে হাসপাতালের বিছানায় ফেলে পালিয়ে যান। পরে শিশুটিকে নিয়ে যান জোবেদা বেগম। বৃহস্পতিবার সকালে সন্তান ফেলে মা-বাবার পালানোর ঘটনাটি প্রকাশ পেয়ে যায়। শত শত মানুষের ভিড় হয় হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে জোবেদার বাড়িতে।

জোবেদা বেগম বলেন, শিশুটি নিজের সন্তান মনে করে নিয়েছি। ইতিমধ্যে ওর জন্য আমরা শীতের অনেক জামা কাপড় কিনেছি। পরম যত্নে আর মায়া মমতায় আমরা শিশুটি বড় করে তুলতে চাই। আমার ছোট বোন মোমেনার বুকের দুধ খাচ্ছে শিশুটি। এখন অনেকেই এসে ভিড় করছে বাড়িতে। আবার অনেকেই আমার কাছ থেকে শিশুটিকে দত্তক নিতে চাইছে।

নবজাতক শিশুটির বাবা প্রদীপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি পথেঘাটে ঝালমুড়ি বিক্রি করে অতিকষ্টে সংসার চালাই। আমার আগের আরো দুটি মেয়ে আছে। তাদের ভরণপোষণ দিতে পারছি না। এবার আশা ছিল ছেলে হবে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হলো না। এ কারণে একটি হিন্দু পরিবারকে শিশুটিকে দত্তক দিতে চেয়েছি। কিন্তু হাসপাতালের স্টাফ শিশুটি নিতে চাইলে রাতে তাকে দিয়ে চলে যাই।

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হোসাইন বলেন, আমরা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার জানা মতে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া দত্তক নেওয়া যায় না।