আলোচনার মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৪১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি চর্চার কথা তুলে ধরে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ কারো সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায়নি; আলোচনার মাধ্যমেই মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফেরত নেবে, এটাই সরকার চায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর ২০২০-২০২১ সালের গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনিতে অংশগ্রহণ করে তিনি এ কথা বলেন। মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দান এবং তারা যাতে ফিরে যেতে পারে তার ব্যবস্থার জন্য আমরা কিন্তু কারো সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে লিপ্ত হইনি। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, তারা যেন তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। একটা বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব নিয়েই আমরা এই কাজ করে যাচ্ছি। তবে যারা অন্যায় করছে, নিশ্চয়ই সেটা আমরা বলব। কিন্তু তারপরও তাদের নাগরিকদের তারা ফেরত নেবে, সেটা আমরা চাই।’ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ায় সারাবিশ্ব বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে বলেও তিনি জানান।

‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া এই পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই নীতিমালা অনুসরণ করেই আমরা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। আজকে কেউই বলতে পারবে না যে, বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের বৈরী সম্পর্ক আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মনে রাখতে হবে এই দেশ লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন করেছি। এই দেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছিলেন। আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফসল আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য আরো অনেক দূর যাওয়া।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এর গ্র্যাজুয়েটগণ সেই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হবেন। দেশকে যেন আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এবং দেশের ভাবমূর্তি যাতে উজ্জ্বল হয় সেদিকেই সকলকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিএসসির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. জুবায়ের সালেহীন স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কমান্ড্যান্টকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র প্রদানের অনুমতি প্রদান করেন শেখ হাসিনা। এই কোর্সে ১৬টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ৪৩ জন বিদেশি কর্মকর্তা এবং ১০ নারী কর্মকর্তাসহ ২২৫ জন সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ শেষ করে পিএসসি অর্জন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩টি বন্ধুপ্রতিম দেশের ১ হাজার ২০৮ জন অফিসার এ কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন।

ডিএসসিএসসির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন তার স্বাগত বক্তব্যের প্রথমেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উত্সর্গকারী সব মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ডিএসসিএসসির সব কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বের ন্যায় পৃষ্ঠপোষকতা, দিকনির্দেশনা ও বিশেষ মনোযোগ প্রত্যাশা করে তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এ বছর ডিএসসিএসসি ২০২০-২০২১ কোর্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২৭ জন অফিসার, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩২ জন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ২৩ জন এবং ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সিয়েরা লিওন, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া এবং উগান্ডা থেকে আগত ৪৩ জন অফিসার অংশগ্রহণ করেন।