লন্ডনে চিকিত্সা বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন পূরণ হলো না ডা. সিরাজুম মনিরা সোমার। করোনা মহামারিতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্নশিপে যোগ দিয়েছিলেন মনিরা। সহকর্মী ডা. এস এম রাকিবুল আজাদের সঙ্গে তার ছিল গভীর প্রেমের সম্পর্ক। পরিকল্পনা ছিল তিন মাস পর ইন্টার্নশিপ শেষ হলে তারা দুজনে বিয়ে করবেন। কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারি সকালে খিলক্ষেতের নামাপাড়ার একটি বাড়ির চার তলার ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে মনিরার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার দুই হাত ও গলা কালো স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। এ ঘটনায় মনিরার সহকর্মী ইন্টার্ন চিকিত্সক এস এম রাকিবুল আজাদকে গ্রেফতার করে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের বাবা আতাউর রহমান বাদী হয়ে ডা. এস এম রাকিবুল আজাদকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মনিরার বাবা বলেছেন, তার মেয়ের স্বপ্ন ছিল লন্ডন থেকে চিকিত্সা বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের সাধারণ মানুষের চিকিত্সা সেবায় নিয়োজিত হওয়ার। রাকিব পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করেছে।
খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সী ছাব্বির আহম্মেদ বলেন, সোমা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। তার বাবা আতাউর রহমান রাজশাহীতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা। মা হোসনে আরা রাজশাহীর একটি স্কুলের শিক্ষিকা। চীনে একটি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পড়তে গিয়ে রাকিবুল আজাদের সঙ্গে পরিচয় হয় মনিরার। রাকিবও ঐ মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করতেন। গত বছরের মার্চ মাসে তারা এমবিবিএস শেষ করে দেশে ফেরেন। পরে তারা দুজনই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্নশিপে যোগ দেন। খিলক্ষেতের ভাড়া বাসায় তারা দুজনেই থাকতেন। তবে তাদের বিয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ওসি আরো জানান, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী হত্যার আলামত মিলেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ডা. এস এম রাকিবুল আজাদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এখনো হত্যার কথা স্বীকার করেননি।
