ফসলের সঙ্গে শত্রুতা বেড়েই চলেছে মেহেরপুরে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৫

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরে ফসলের ওপর শত্রুতা যেন থামছেই না। একের পর এক ফসলি জমি নষ্ট ও পুকুরে বিষ প্রয়োগ করছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবারও ঘটেছে এক চাষির গমখেত কেটে নষ্ট করার ঘটনা। এ নিয়ে গত এক মাসে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ডজনখানেক চাষির উঠতি ফসল কেটে নষ্ট করার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে লাখ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার ঘটনা তো রয়েছেই। এ ধরনের অনেক অভিযোগ থাকলেও এখনো অধরা অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগীরা জানায়, কখনো চাঁদা না পেয়ে, আবার কখনো জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। মাসখানেকের মধ্যে এতগুলো ফসল কেটে নষ্ট করার ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকার চাষিরা।

সরেজমিনে জানা যায়, সদর উপজেলার শালিকা গ্রামের মিনারুল নামের এক গম চাষির দুই বিঘা জমির গম কেটে নষ্ট করেছে প্রতিপক্ষরা। মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর গ্রামে চাঁদা না পেয়ে দুই বিঘা জমির পেঁয়াজ কেটে নষ্ট করার ঘটনা ঘটেছে। গাংনী উপজেলার যুগিরগোফা গ্রামে ঘটেছে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার ঘটনা। এতে আব্দুল লতিফ, ঠান্ডু মিয়া, আনিস, ইদ্রিস, খলিল মেম্বার ও দুখু মিয়ার ১৬ বিঘা পুকুরের মাছের ক্ষতি হয়েছে। তারা জানায়, রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া একই উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মুরাদ আলীর দুই বিঘা তামাকখেত, চরগোয়াল গ্রামের হাবিব উদ্দিনের ৩০০ কলাসহ গাছ, সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের আবু তাহেরের দুই বিঘা জমির কলাগাছ, বুড়িপোতা গ্রামের শাহীনের প্রায় দুই বিঘা জমির কলাগাছ ও মেহেরপুর নতুন বাস টার্মিনালের পাশে এক বিঘা জমির মরিচ গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শাহীন জানান, প্রায় সবগুলো ঘটনাই রাতের আঁধারে ঘটেছে। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, ফসল কেটে নষ্ট করার ঘটনা ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জায়গায় ঘটেছে। যে কারণেই হোক না কেন, ব্যক্তির ওপর রাগ ফসলের ওপর দেখানো খুবই জঘন্য। চাষিদের ফসল কেটে নষ্ট করার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামিরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে এসংক্রান্ত কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি অতি দ্রুত তাদের আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে।