স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা
ড. ফাল্গুনী রানী চক্রবর্তী
সহকারী অধ্যাপক
বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, বদলগাছি, নওগাঁ
সংগীত প্রীতি বাগানের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বাঙালির সনাতন ঐতিহ্য। আবহমান কাল ধরে বাংলার মানুষ সংগীতের জগতে বিচরণ করছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতিটি অঞ্চলের রয়েছে বিচিত্র জীবনের চালচিত্র। আর এসব ধ্বনিতহয়ে ওঠে কথায় ও সুরে, তাই বাংলাদেশকে বলা হয় ‘গানের দেশ।’ বাংলার মানুষের প্রাণের সুখ-দুঃখ-আনন্দ-বেদনার সাথে সাথে স্রষ্টার প্রতি, সৃষ্টির প্রতি যে গভীর ভক্তি তারও প্রকাশ রয়েছে বাংলার গানে। ভাটিয়ালি, জারি, সারি ভাওয়াইয়া, পালাগান, গম্ভিরা এসব গানে প্রকাশিত হয়েছে বাংলার মানুষের প্রাণের স্বতফূর্ত অভিব্যক্তি। আমি আজ যাঁর কথা তোমাদের বলছি তিনি এমন একজন সংগীত সাধক এবং শিল্পী ছিলেন, যিনি বাঙালির সংগীত জগতে একজন চিরঞ্জীব সংগীত শিল্পী। তিনি কখনও কোন ওস্তাদের কাছে তালিম নেননি। অথচ নিজের আগ্রহে
হারমনিয়াম বাজানো শিখেছেন এবং সুরকে নিজের মতো করে কণ্ঠে ধারণ করেছেন। যাত্রা থিয়েটার ও স্কুল কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান শুনে তিনি গানের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং গান গাওয়া রপ্ত করতে থাকেন। যেকোনো গান দু-একবার শুনলেই তিনি আয়ত্ত করে নিতে পারতেন। অল্প সময়ের জন্য তিনি ওস্তাদ জমিরুদ্দীন খাঁর নিকট উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছিলেন। সুকণ্ঠী এই শিল্পীর নাম আব্বাস উদ্দীন আহমদ।
১৯০১ সালে ২৭ অক্টোবর কুচবিহারে তুফানগঞ্জ গ্রামে তাঁর জন্ম। পিতা জাফর আলি আহমদ ছিলেন একজন আইনজীবী। আইএ পাশ করেও তিনি নিজের সংগীত প্রতিভার জন্য কলকাতার বাংলা সরকারের রেকর্ডিং এক্সপার্ট এবং পরে অতিরিক্ত সহ-পাবলিসিটি অফিসার পদের দায়িত্ব পেয়ে যান। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কোন বিরহীর নয়ন জলে’ ‘স্মরণ .............ওগো প্রিয়া’ শৈলেন রায়ের ‘আজি শরতের রূপ দীপালি’, জীতেন মৈত্রে ‘ওগো প্রিয়া নিতি আসি’ এই চার খানি গান রেকর্ড করে তিনি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন।
পরের অংশ আগামীকাল।
