সিরীয় শিবিরে ২৭ হাজার শিশুকে নিজ নিজ দেশে ফেরানোর আহ্বান জাতিসংঘের

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ২১:০৫

আলজাজিরা

সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের একটি শিবিরে আটকে থাকা ২৭ হাজার শিশুকে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী শাখার প্রধান ভ্লাদিমির ভরোনকভ। আটককৃতদের অধিকাংশই আইএস যোদ্ধাদের সন্তান। এক সময় এই আইএস-ই ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে শুক্রবার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ভ্লাদিমির ভরোনকভ বলেন, সিরিয়ার আল-হল শিবিরে এসব শিশু বর্তমানে ভয়াবহ দিনযাপন করছে। তিনি বলেন, ‘এসব শিশুর আজ ভাগ্য বিপন্ন। সামনে তাদের জন্য আরো বড় ধরনের ঝুঁকি অপেক্ষা করছে। কেননা সেখানে তারা উগ্রপন্থিদের শিকার হতে পারে। সে  বিবেচনায় তাদের ভবিষ্যত্ আজ ভয়াবহ হুমকিতে।’ জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক কর্মকর্তারা বলেন, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত সিরীয়দের বৃহত্তম আশ্রয় শিবির আল-হলে বর্তমানে ৬২ হাজার লোক বাস করছে। এর ৮০ শতাংশই হচ্ছে নারী ও শিশু। অনেকে আবার পালিয়েও গেছে। ভরোনকভ বলেন, এই ক্যাম্পে ৬০ দেশের লোক রয়েছে। সেসব দেশেরই দায়িত্ব তাদেরকে গ্রহণে এগিয়ে আসা। এটা সিরীয় সরকার বা আইএসের দায়িত্ব নয়। তিনি বলেন, রাশিয়া ও কাজাখসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অংশ নিয়েছে। সম্মিলিতভাবে তারা ১ হাজার শিশু ও তাদের পরিবারকে প্রত্যাবাসন করেছে। যারা প্রত্যাবর্তন করেছে তারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেছে, সেখানে যারা অবস্থান করছে তাদের জন্য সামনে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি অপেক্ষা করছে।

জাতিসংঘের সন্ত্রাস বিরোধী সেন্টারের নির্বাহী এই পরিচালক বলেন, এসব শিশুর নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে যারা কিশোর বয়সের, তাদের আটক বা বিচারের আওতায় আনা উচিত নয়। তিনি বলেন, এই নিরীহ শিশুদের ভয়াবহ সহিংস ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে হবে। একই ধরনের কথা বলেছেন জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া গাম্বা। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের মেনে নিতে হবে, এই শিশুরা আজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই তাদের বাঁচাতে হবে। তারা কখনোই আমাদের নিরাপত্তার হুমকি হতে পারে না। সঠিক গন্তব্যে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের নীতি-নৈতিকতার মধ্যে পড়ে।’