যেভাবে ধর্ম পালন কর, সেভাবে প্র্যাকটিস করবে

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ২১:৩৯

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাতসকালে কিশোর ফুটবলারদের বাজার বসল। ১৫, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সের খেলোয়াড়েরা এসেছিল বাফুফের ট্যালেন্ট হান্টিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে। দূরদূরান্ত থেকে এসেছে তিন শতাধিক কিশোর, যাদের চোখে-মুখে স্বপ্ন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াবে। বাফুফে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজতে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

বাফুফের অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর পল থমাস স্মলি, গোলকিপার বিপ্লব, ইলিংশ কোচ জেমি, তার সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস, পারভেজ বাবু কিশোর ফুটবলারদের পালাক্রমে যাচাইবাছাই করছিলেন।

 মা দিলরুবার পুত্র বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্কুল অ্যান্ড পাবলিক কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহিত বেরিয়ে যাচ্ছিল ট্রায়ালে না টেকার কারণে। মন খারাপ করেননি মা দিলরুবা। বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলছিলেন, ‘ছেলে প্রথম খেলতে এসেছে। আমরা তো আগে ফুটবলই বেশি দেখতাম। এখন ক্রিকেট দেখি। ছেলে ফুটবল খেলতে চায় বলে এসেছিলাম।’ স্টেডিয়ামের ভেতরে তখন প্রায় সাড়ে ৩০০ ফুটবল প্রতিভা ট্রায়াল দিতে এসে ট্র্যাকের ওপর বসে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের কথা শুনছে। তিনি বলছিলেন, ‘যারা সুযোগ পাবে তাদের অভিনন্দন। আর যারা পাওনি, তারা আবার আসবে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।’ কিশোরদের উজ্জীবিত করতে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ফুটবলার হতে হলে তিনটা জিনিস লাগবে। প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস এবং প্র্যাকটিস।’ আরো পরিষ্কার বোঝাতে গিয়ে সালাহউদ্দিন বললেন, ‘যেভাবে ধর্ম পালন কর, ঠিক সেভাবে প্র্যাকটিস করবে। বিশ্বে যারা ফুটবল খেলে, তাদের হারাতে হলে প্র্যাকটিস করতে হবে। সবকিছু তোমাদের ওপর নির্ভর করে।’ পিনপতন নীরব হয়ে কথা শুনছিল আগামী দিনের ফুটবলাররা। স্বজনপ্রীতি হবে না—সালাহউদ্দিনের কণ্ঠে এমন কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে করতালিতে নীরব পরিবেশ ভেঙে খান খান।

বরিশালের লিপু, লালবাগের সাব্বির, নারায়ণগঞ্জের আজিম হাসান, ফয়সাল, শ্যামপুরের নোবেল কিংবা সোলায়মানদের চোখে-মুখে অন্যরকম আনন্দ। ট্রায়াল দিতে এসে জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমিকে পেয়ে দারুণ খুশি। জেমির সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক পড়ল। বিকেএসপির ছাত্র বিমানবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আশরাফ খানের পুত্র নোবেল, অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার আজহারুল হকের পুত্র রাশাদ, ফজলে রাব্বী, মাহফুজুর রহমান পাঠানের কাছে সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো মনে হলো। শেষ চার জন বিকেএসপির শিক্ষার্থী। তার পরও তারা বাফুফের ট্রায়ালে যোগ দিয়ে খুশি। সাবেক গোলকিপার বিপ্লব জানালেন, তিনি ঢাকার একটি ছেলে পেয়েছেন গোলকিপিং করবে। খুবই ভালো। কিছু জানে। খেলা চলাকালীন পেছন থেকে সাউন্ড করতে পারে।

সারা দেশে বাছাই হচ্ছে, আরো হবে। সালাহউদ্দিন জানিয়ে গেলেন, এখানেই শেষ নয়। এবার সুযোগ না পেলেও সে আবার ট্রায়াল দিতে পারবে। ১ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, বাগেরহাট, সিলেট, নওগাঁ, নীলফামারী, ভোলা, জামালপুরে বাছাই হবে।