সিংগাইরে ইউপি চেয়ারম্যানের জালিয়াতি
মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
একটিতে আংশিক আর তিনটি প্রকল্পে কোনো ধরনের কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। শুধু তাই নয়, দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গভীর নলকূপও তার এবং স্বজনদের বাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে। এমন অভিযোগ পাওয়া যায় সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। গত অর্থবছরের এ প্রকল্পগুলো হচ্ছে ধল্লা বাজার খেয়াঘাট, ভূমদক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বালু দিয়ে ভরাট, আঠালিয়া পূর্বপাড়া জাইল্যা গ্রামে কালামের মোড় থেকে হাবুর বাড়ি ও একই স্থানে পূর্ব আঠালিয়া মস্তানের মসজিদ থেকে বাচ্চু খানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজ। ভূমদক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হালিমা খাতুন বলেন, স্কুল মাঠ ভরাটের জন্য গত অর্থবছরে ২ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দ আসে। মাত্র ৫ থেকে ৭ গাড়ি বালু ফেলে কাজ সমাপ্ত করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কাজ না করায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি এবং স্কুলের সভাপতি বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও চেয়ারম্যান তাতে সাড়া দেননি। কাজের হিসাবও দেননি।
এছাড়া আঠালিয়া পূর্বপাড়া জাইল্যা কালামের মোড় থেকে হাবুর বাড়ি এবং একই স্থানে পূর্ব আঠালিয়া মস্তানের মসজিদ থেকে বাচ্চু খানের বাড়ি পর্যন্ত প্রকল্পভুক্ত রাস্তা না করেই ৪ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে । প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য নুর জাহান বলেন, তাকে সভাপতি করা হলেও তিনি প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সবকিছুই চেয়ারম্যান নিজে করেছেন। এটাও গত অর্থবছরের কাজ। অপরদিকে খাসেরচর মাদ্রাসা থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তালেব আলীর বাড়ির ওঠান ঘরে যাওয়ার রাস্তা এবং ফুলের গাছের গোড়া পাকা করা হয়েছে সরকারি ইট দিয়ে। সরকারি ইটে ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরি প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট কোহিনুর ইসলাম সানি ও এলাকাবাসী জানান, চেয়ারম্যান তার ভোটব্যাংক তৈরির স্বার্থে এটা করেছেন।
অন্যদিকে তিনি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের ধল্লা বাজার খেয়াঘাট ব্রিজ প্রকল্পেও পুরোটাই আত্মসাত্ করেছেন বলেও জানা গেছে। কয়েক জন ইউপি সদস্য জানান, প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে তাদের নাম থাকলেও সব কাজ চেয়ারম্যানই করেন। তারা শুধু স্বাক্ষর দেন। এমনকি সাদা চেকও দিয়ে থাকি। কিছুই বলতে পারেন না চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সরকারি গভীর নলকূপ নিজের এবং স্বজনদের বাড়িতে স্থাপনের বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করে চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, স্কুল মাঠে মাটি ফেলা এবং মস্তানের মসজিদ থেকে বাচ্চু খানের রাস্তার কাজ ঠিকঠাক মতোই হয়েছে। তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আঠালিয়া পূর্বপাড়া জাইল্যার কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া খেয়া ঘাটের রাস্তার ২ লাখ টাকার কাজ সঠিক ভাবেই করা হয়েছে। তবে খেয়াঘাটের খালেক মাঝির দাবি, মাটি ও ব্রিজের কাজ তিনি নিজেই করে টোল আদায় করছেন। তবে টোলের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয় না বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
