প্রবাসী দুই ভাইয়ের ২২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাবেক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৩৪

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই নম্বর আসামি অধ্যাপক আবুল কাশেম জোয়ার্দারের আপন দুই ভাইপোর ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাত করে লন্ডনে পাচার করেছেন যুবদলের সাবেক নেতা ও ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মামুন। লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের কাছেও নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে আসছেন যুবদলের এই সাবেক নেতা।

অধ্যাপক আবুল কাশেম জোয়ার্দারের দুই ভাইপো অধ্যাপক ড. আবুল মাসরুর ও প্রকৌশলী মুহাম্মদ ওমর ফারুক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। প্রবাসী অধ্যাপক ও তার সহোদরের ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাটও দখলে রেখেছেন মামুন। শনিবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আবুল কাশেম জোয়ার্দারের পুত্র সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট রিফাত্ নিলয় জোয়ার্দার এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রিফাত্ নিলয় জোয়ার্দার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. আবুল মাসরুর ও তার ভাই প্রকৌশলী মুহাম্মদ ওমর ফারুক পৈতৃক সূত্রে ধানমন্ডির ১৪ নম্বর রোডের ২৯ নম্বর বাড়িটি মালিক। প্রবাসী ঐ দুই ভাইয়ের বাংলা মোটর মোড়ে পৌনে সাত কাঠা জমিতে নূরজাহান টাওয়ার নামে একটি ভবন রয়েছে। ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে করা এই ভবনের যে অংশ প্রবাসী দুই ভাই পেয়েছেন তার সবই বিক্রি করে ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন মামুন। এই নূরজাহান টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগে তিনি প্রবাসী দুই ভাইকে সর্বসান্ত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ধানমন্ডির বাড়িটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়। এক্ষেত্রে জমির মালিক হিসেবে ওই বাড়ির ছয়টি ফ্ল্যাটের মালিক হন। এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাটে মামুনকে থাকার অনুমতি দেয়। এই সুযোগে মশিউর রহমান মামুন ঐ বাড়ির তিনটি ফ্ল্যাট দখল করেন। আরেকটি ফ্ল্যাটে তিনি অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। এই অফিসে বিএনপির একশ্রেণির নেতাদের নিয়মিত আসা-যাওয়া রয়েছে। বিএনপি নেতাদের  গোপন বৈঠকও হতো। ২০১৫ সালে সরকার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামুনকে গ্রেফতার করে। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে কথোপথন ধরা পড়ে ডিবির তদন্তে।

সংবাদ সম্মেলনে লন্ডনে টাকা পাচার রোধ করতে অবিলম্বে মশিউর রহমান মামুনকে গ্রেফতার করার দাবি করা হয়।