‘তবুও তরী বাইতে হবে’ শীর্ষক নারীপক্ষের ভার্চুয়াল জাতীয় নারী সম্মেলন শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। এর আগে শুক্রবার ‘পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে পথ চেনা’ গানটির সঙ্গে নারীপক্ষর বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও ক্লিপ প্রদর্শন করে সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী দিনে কৃষক নারীদের ন্যূনতম মজুরি প্রদান, অভিবাসী নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পোশাক কারখানা নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য হ্রাস ও যৌন হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নারীপক্ষর সভানেত্রী মাহমুদা বেগম গিনি। শোকবার্তা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য নাজমুন নাহার। সূচনা বক্তব্য রাখেন নারীপক্ষর আন্দোলন সম্পাদক তামান্না খান পপি। ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নারী মুক্তি আন্দোলনের ধারণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’-এর উদ্দেশ্যে এ সম্মেলনে নারীপক্ষর সদস্য, কর্মী এবং সারা দেশ থেকে অন্তর্জালের মাধ্যমে সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, দুর্বার নেটওয়ার্কের সদস্যসহ প্রায় ৫০০ নারী বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণ করেন।
‘অর্থনীতিতে নারীর অবস্থান’ শীর্ষক অধিবেশনে কর্মজীবী নারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মসূচি ও নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা বলেন, কৃষি কাজের ২১টি ধাপের মধ্যে ১৭টি করে নারী কিন্তু সেই কাজের কোন স্বীকৃতি ও মূল্য নাই। কৃষক নারীদের ন্যূনতম মজুরি, প্রণোদনা ও বিভিন্ন দুর্যোগে রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, পোশাকশিল্প কারখানাগুলোতে নারী শ্রমিকেদের কম মজুরি প্রদান, যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি না হওয়া একটি চর্চায় পরিণত হয়েছে। এই অবস্থার উন্নয়নের জন্য যৌথভাবে আন্দোলন করতে হবে।
রামরুর নির্বাহী পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, অভিবাসী নারী শ্রমিকেরা যাতে নিরাপদে সসম্মানে কাজ করতে পারেন সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো নারী শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হলে সেই দেশের শ্রম আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
অধিবেশনের সঞ্চালক সংগঠনের নির্বাহী সদস্য মাহীন সুলতান বলেন, সব নারীই কর্মজীবী, সব কাজের মূল্য চাই, স্বীকৃতি চাই। এই জন্য আমাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। সম্মেলনে নারীপক্ষর প্রাক্তন সভানেত্রী সৈয়দা রুহী গজনবীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ‘রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব’ অধিবেশনে নারী সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
