ফেব্রুয়ারির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা আছে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ২২:৪১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশবাসীর প্রতি স্বাস্থ্য নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ফেব্রুয়ারির পর করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। গতকাল শনিবার সকালে গণভবন থেকে অনলাইনে পূর্ববর্তী পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে সরাসরি পরীক্ষা ছাড়া ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ফলাফল গ্রহণ করেন।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এবার ঘোষিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য    না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই এটা নিয়ে কথা বলছেন। আমি মনে করি, খুব বেশি কথা বলা বা এটা নিয়ে বেশি তিক্ততা সৃষ্টি করা উচিত না। মনে রাখতে হবে আমাদের ছোট ছেলেমেয়েরা, তাদের জীবনটার দিকে তাকাতে হবে। তারা যেন কোনোভাবেই হতাশাগ্রস্ত না হয়ে পড়ে। এমনিতেই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, এটা তাদের জীবনে বিরাট এক বাধা সৃষ্টি করছে। এরপর যদি আবার ফলাফল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা হয়, এতেও কিন্তু তাদের ওপর মানসিক চাপ পড়বে। যারা এ ধরনের কথা বলছেন, তাদের আমি বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। মহামারির মতো বিরূপ পরিস্থিতিতে কেন ফলাফল ঘোষণা করা হলো, তাও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একবার ভেবেছিলাম যে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হবে, অবস্থার পরিবর্তন হলে পরে আমরা পরীক্ষাটা নিতে পারব। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটা কোনোমতেই বন্ধ হচ্ছে না, এমনকি নতুনভাবে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে, তাদের পড়াশোনার পথ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এরকম একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে এই ফলাফলটা ঘোষণা করলাম। তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও একই পদ্ধতিতে ফলাফল ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদের দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আরেকটা বিষয় হলো, আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটা বছর নষ্ট হয়ে যাক, সেটা আমরা চাই না। তাদের শিক্ষা জীবনটা চলমান থাক, সেটাই আমরা চাই। সেই কারণেই আমরা ফলাফলটা ঘোষণা দিলাম। আশা করি, তাদের পড়াশোনা অব্যাহত থাকবে।’

মহামারির মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার সুরক্ষার কথা ভাবতে হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোভিড সংক্রমণে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই ব্যবস্থাগুলো আমরা নিতে বাধ্য হয়েছি। অনেকে সেন্টিমেন্টাল হচ্ছেন, কথা বলছেন পরীক্ষা নিতে। কিন্তু এগুলো করতে গিয়ে যদি কেউ সংক্রমিত হয়, তাহলে তার দায়দায়িত্ব কে নেবে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই ফেব্রুয়ারি মাসটা নজরে রাখব। যদি এই ফেব্রুয়ারি মাসে অবস্থা ভালো থাকে তাহলে পরবর্তী সময় সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারে সে ব্যবস্থাটা আমরা নেব।’   ফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বক্তৃতা করেন।