করোনার কারণে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য যারা রেজিস্ট্রেশন করেছে তারা সবাই পাশ করেছে। এ সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৭ হাজার। শুধু তাই নয়, জিপিএ-৫ পেয়েছে দেড় লাখেরও বেশি। যারা পাশ করেছে তাদের বেশির ভাগকেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু এইচএসসিতে পরীক্ষার্থীরা কোনো ধরনের মূল্যায়ন ছাড়াই ফল পেয়েছে সে কারণে এইসব শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের জায়গা হবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি। যারা প্রকৃত অর্থে পড়াশোনা করেছে তারা তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। প্রশ্ন হলো প্রায় পৌনে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি হবে কোথায়। এত আসন কি আছে? এছাড়া জিপিএ-৫ পাওয়া দেড় লাখ শিক্ষার্থীও ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে ?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সরকারি বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্সের আসন আছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার। ডিগ্রি পাশ কোর্সের আসন সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার। এছাড়া কিছু প্রফেসনাল কোর্স রয়েছে যেখানে ৭ হাজার আসন রয়েছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার ৭ কলেজের আসন সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি নয়।
তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৯৭টির শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। আসন ১ লাখের বেশি। ইউজিসির সূত্র জানিয়েছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট করা ছিল না। তবে এবার থেকে এই আসন সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেওয়া হবে। এছাড়া দেশে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যার আসন সংখ্যা ৬০ হাজারের সামান্য কম বেশি। এছাড়া মেডিক্যাল কলেজ, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন কোর্স রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে হবে। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজে গত কয়েক বছরের মতোই এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে। মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে। কিছু নামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় সরাসরি।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গত বছর যে সুযোগ ছিল, এবারও স্বাভাবিকভাবে ততটুকু থাকছে। সবাইকেই এই পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে, বিভিন্নভাবে এ পরীক্ষা হবে। কাজেই সেখানে তাদের মেধার পরিচয় দিয়ে দিয়েই ভর্তির সুযোগ পাবে তারা।
ফলাফল প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাশ করা সব শিক্ষার্থী ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পেলেও ভর্তির সুযোগ রয়েছে। আমাদের সরকারি-বেসরকারি ও কলেজে পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। সবাই সেখানে ভর্তির সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, সব জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে, তা নিশ্চিত নয়। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের স্থান তৈরি করতে হবে। এবার ভর্তি পরীক্ষায় হয়রানি কমাতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এই চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাদে অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার আয়োজন করবে। এতে অতীতের মতো শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে না। সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষির সাত বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর বুয়েটসহ চারটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
