‘সিমকার্ড বিক্রি করে পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছি’

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:৪১

“শুরুর দিকে আমার একটা রবি (একটেল) নম্বর ছিলো। মাস্টার্স পরীক্ষার সময় আমার কাছে টাকা ছিলো না তাই ওই সিমকার্ডটি আমি বিক্রি করে দিয়েছিলাম। আমার পরিবার সচ্ছল কিন্তু বলতে পারছি না যে আমি সমস্যায় আছি। বললে তো আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে চাকরিতে ঢুকিয়ে দেবে। তখন তো আমার গান-বাজনা বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর আমি পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখলাম বন্যার জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মানে পুরোটাই লস। আসলে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবাম রিলিজের আগে যা যা অসহযোগিতা ছিলো সবই আমার সাথে ঘটেছে। পরে ঢাকায় ফিরে আমি একটি সিমকার্ড কিনে নেই। সেই নম্বরটাই ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামে দেওয়া ছিলো।”

গত শনিবার ২০ বছরে পা রাখে আসিফ আকবরের প্রথম ও সবথেকে জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’। এদিন জনি হকের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় ‘ইত্তেফাক অনলাইনের ‘টুনাইট শো’ লাইভে হাজির হয়ে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামের বিভিন্ন অন্তরালের কথা করেন আসিফ।

আরও পড়ুন: জেমসের তোলা জয়ার ছবি নিয়ে তোলপাড়

আসিফ আকবর বলেন, ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবাম রিলিজ হওয়ার পর অস্বাভাবিক ফোন আসতো। প্রথমে অনেক মজা লাগতো। একে একে ভক্তের পরিবারের সবার সাথে কথাও বলতে হতো। কিন্তু এই কথা বলতে বলতে আমার কানের সমস্যা দেখা দেয়। তখন আমি ডাক্তার দেখাই। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ফোনটা পরিবর্তন করি এবং কথা বলা একেবারে কমিয়ে দেই।’

আসিফের কথায়, “ফিরোজ মাহমুদ ভাইয়ের হাত ধরে অনেক সংগীত শিল্পীর জন্ম হয়েছে। তিনি খুবই ক্রিয়েটিভ লোক। তার কাছে যাওয়া কিন্তু বিশাল ব্যাপার ছিলো। সেই সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে শফিউদ্দিন শিকদার ভাই ছিলেন। তিনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন। শফিউদ্দিন ভাই আমাকে ফিরোজ মাহমুদের কাছে নিয়ে যান। ওনাকে আমি প্রথমে ‘নিষ্ঠুর তুমি’ গানটা শোনাই। এরপর ‘কখনো ভালোবাসোনি এবং শেষে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ শোনাই। শেষ গানটি শুনে ফিরোজ ভাই বললেন, ‘এটাইতো গান, এটাই যাবে’। সেই সময় লিস্টেড ছাড়া বিটিভিতে গান গাওয়া যেতো না। তখন ফিরোজ মাহমুদ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আমার জন্য একটা স্পেশাল অনুমতি নিয়ে আসেন। আগস্ট মাসের ৭ তারিখে আমার বিটিভিতে প্রেগামটি অনইয়ার হয়। ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামে ফিরোজ ভাই অনেক বড় একটা ভূমিকা পালন করেছেন। যেটা আগে বলা হয়। আসলে তিনি যাকে ধরেছেন তিনি সোনার হরিণে পরিণত হয়েছেন।”

দীর্ঘ প্রায় ‍দুই ‍যুগের ক্যারিয়ারে আসিফকে নাম-জশ-খ্যাতি এনে দিয়েছে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবাম। এই অ্যালবাম প্রকাশের পরপরই রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের হার্টথ্রুবে পরিণত হন এই কণ্ঠশিল্পী। অ্যালবামটির থিম গান ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ তো রীতিমতো আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায়। অন্যান্য গানও শ্রোতামহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বলা চলে, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যবসাসফল অ্যালবাম ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’।

২০০১ সালের ৩০ জানুয়ারি সাউন্ডটেকের ব্যানারে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবাম বাজারে আসে। তথ্য অনুযায়ী, সে সময় অ্যালবামটি ৬০ লাখ কপি বিক্রি হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা অডিও অ্যালবাম। অ্যালবামটিতে মোট ১২টি গান ছিল, প্রতিটি গানের কথা ও সুর করেছেন ইথুন বাবু।

ইত্তেফাক/বিএএফ