জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জটিলতায় সনদ নিতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সৈয়দপুর পৌরসভার নাগরিকরা। ফলে অভিভাবকরা সন্তানকে স্কুল-কলেজে ভর্তি এবং অনেকেই পেনশন, জমি রেজিস্ট্রিসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পৌরসভার নাগরিকদের সেবাসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি সেবা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন। স্কুল-কলেজে ভর্তি, বিয়ে, পেনশন, পাসপোর্ট, চাকরি, জমি বেচা-কেনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পেতে সংশ্লিষ্ট শাখায় ভিড় করেন নাগরিকরা। পৌরসভায় জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে আসা প্রবীণ নাগরিক আতিয়ার রহমান বলেন, ভারতে চিকিত্সা করতে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট বানাতে হবে। এজন্য জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। পৌরসভায় গত সাত দিন ধরে ঘুরছি কিন্তু সনদ পাচ্ছি না।
তারা বলছে, সার্ভারে সমস্যার কারণে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সনদ প্রয়োজন। সনদ না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। এখানে বসার কোনো জায়গা নেই। বসার জায়গার কথা বললে তারা খারাপ ব্যবহার করে। শাহনাজ পারভীন নামের অন্য এক জন বলেন, আমার বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাব। জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল থাকায় সমস্যা হচ্ছে। সংশোধনের জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে পৌরসভায় ঘুরছি কিন্তু পাচ্ছি না। কম্পিউটার অপারেটর বলছে, সার্ভার নেই, সার্ভার আসলে হবে। কিন্তু সার্ভার কবে হবে তাও বলতে পারছে না। এভাবে প্রতিদিন পৌরসভায় এসে হয়রানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। মমতাজ বেগম নামের এক জন বলেন, আমার বাবা মারা গেছেন। তার মৃত্যু সনদের জন্য কয়েকদিন ধরে ঘুরছি। কিন্তু সার্ভার সমস্যার কারণে পাচ্ছি না। বাবার নামের পেনশন মায়ের নামে করতে বাবার মৃত্যু সনদ প্রয়োজন। সনদ না পাওয়ায় পেনশনের কাজ করতে পারছি না। ফলে দেড় মাস হলো খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।
পৌরসভার জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু সনদের কাজ করেন আল মামুন। তিনি বলেন, সার্ভার আপডেটের কার্যক্রম চলমান এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় দুই মাস সার্ভার বন্ধ রয়েছে। এতে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান ও ভুলত্রুটি সংশোধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে মৃত্যুসনদ প্রদানের প্রথম শর্ত হলো তার জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হবে, তারপরে মৃত্যুসনদ দিতে হবে। কিন্তু সার্ভার না থাকায় সব কার্যক্রমই বন্ধ রয়েছে।
পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র জিয়াউল হক জিয়া বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। তাতে খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।
ইত্তেফাক/এএএম
